
সরকারকে পাঁচ বছর মেয়াদ পূরণের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সরকার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করলে এনসিপি পেট্রোবাংলা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে এবং দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর মানুষও রাজপথে নামবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে হবিগঞ্জে হামলার শিকার কিশোর আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী আলিফের একটি চোখের দৃষ্টি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে এবং অন্য চোখটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। চিকিৎসকদের বোর্ড সভার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে আলিফের কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। ভিডিও ফুটেজে হামলার ঘটনা স্পষ্ট হলেও এখন পর্যন্ত জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর সাংগঠনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এনসিপি আহ্বায়ক আরও অভিযোগ করেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে হামলা চালালেও বিচার হচ্ছে না। হবিগঞ্জে তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আলিফের ওপর হামলা এবং সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্য কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ বা দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো বক্তব্য বা পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে যে কোনো সন্তান একই ধরনের সহিংসতার শিকার হতে পারে।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দমনের প্রচেষ্টা।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যদি সরকার মনে করে এভাবে পাঁচ বছর পার করবে, সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের রায় অস্বীকার করে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। টিকে থাকতে হলে দমন-পীড়নের পথেই থাকতে হয়, যেমনটি শেখ হাসিনার সরকারের সময় দেখা গেছে।
এ সময় তিনি সরকারের জ্বালানিনীতিরও সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে ২৫ টাকা এবং সিএনজির গ্যাসের দাম ৪২ টাকা থেকে ৬৫ টাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দ্রব্যমূল্য আরও বাড়বে, শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে। সরকার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দফায় দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও এলপিজির দাম বাড়িয়েছে। আবাসিক গ্যাসের দামও বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। মানুষ গ্যাস না পেলেও নিয়মিত বিল দিচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে, শিল্পকারখানা বিদ্যুৎ সংকটে রয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা প্রশাসনিক হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাও কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে আমরা অবশ্যই পেট্রোবাংলা ঘেরাও করব। ঢাকা শহরের মানুষও দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসানো হয়েছে। পদবঞ্চিত নেতাদের মূল্যায়ন করতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পাঁচ মাসেই সরকারের অগণতান্ত্রিক ও সন্ত্রাসী চরিত্র জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।










