
কেউ কেউ কথা দিয়ে মানুষের মন জয় করেন, আবার কেউ কেউ নীরব অক্ষরে শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে তৈরি করেন এক মুগ্ধকর জগৎ। তানজিদ শুভ্র এই দুই দলেরই একজন নিপুণ কারিগর। গত সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকগুলোর পাতায় তার ফিচার লেখাগুলো সাধারণ মানুষের গল্প আর না-বলা সাফল্যের কথা তুলে ধরছে। তবে তার গল্পটা কেবল নিউজপ্রিন্টের পাতাতেই সীমাবদ্ধ নেই। একজন লেখক, তুখোড় সংগঠক, পাবলিক স্পিকিং কনসালটেন্ট এবং নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে তিনি এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা পাঠকদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুগ্ধ করে রাখে।
লেখালেখি যেন তার অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দৈনিক ইত্তেফাক, যুগান্তর, কালের কণ্ঠ বা জাগো নিউজের মতো জনপ্রিয় গণমাধ্যমগুলোতে তার নাম পাঠকদের কাছে বেশ পরিচিত। বর্তমানে তিনি ‘দৈনিক আলোকিত সকাল’-এর সাহিত্য পাতার বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
চারপাশের সাধারণ ঘটনাগুলোকে শব্দের জাদুতে অসাধারণ বর্ণনায় ফুটিয়ে তোলার এক দারুণ নৈপুণ্য রয়েছে তার। ফিচার সাংবাদিকতায় এই ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘শাহীনা রব স্মৃতি পদক’ এবং ‘বর্ষ সেরা লেখক’-এর মতো সম্মাননা অর্জন করেছেন।
অক্ষরের প্রতি এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই তাকে যুক্ত করেছে ‘বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম’-এর সাথে। নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা আর দূরদর্শিতা দিয়ে তিনি এই সংগঠনটিকে তরুণদের মতপ্রকাশের এক বিশাল জাতীয় প্ল্যাটফর্মে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তানজিদ বিশ্বাস করেন, শুধু নিজের গল্প বললেই হয় না, অন্যকে তার নিজের গল্প বলার মঞ্চ তৈরি করে দেওয়াটাও সমান জরুরি।
একজন পাবলিক স্পিকিং এবং টিভিইটি কনসালটেন্ট হিসেবে তানজিদের সবচেয়ে বড় জাদুর জায়গাটি হলো শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখার ক্ষমতা। দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তিনি নিয়মিত ছুটে যান তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মশালা পরিচালনা করতে।
ইডেন মহিলা কলেজে তার ফিচার রাইটিং মাস্টারক্লাস কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল স্কিলস ট্রেনিংয়ের সেশনগুলো অংশগ্রহণকারীদের মাঝে গভীর ছাপ ফেলেছে। তিনি শুধু মাইক্রোফোনে একঘেয়ে কথা বলেন না; তিনি শ্রোতাদের চোখের ভাষা পড়েন, তাদের সাথে মিশে যান এবং খুব কঠিন বিষয়গুলোকেও গল্পের ছলে সহজ ও আনন্দদায়ক করে তোলেন।
তরুণদের মননশীলতার বিকাশে তিনি যেমন নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, ঠিক তেমনি নিজের সমাজ ও চারপাশের প্রকৃতির প্রতিও রয়েছে তার গভীর দায়বদ্ধতা। স্বেচ্ছাসেবী কাজে তার এই জোরালো অংশগ্রহণ সেই প্রমাণই দেয়। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে নিজ এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি তিনি একটি বড় পরিসরের চ্যালেঞ্জ হাতে তুলে নেন।
গত দুই বছর ধরে ‘বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম’-এর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মাধ্যমে তিনি দেশের ৬৪ জেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। এছাড়াও, পরিবেশ সংরক্ষণের তাগিদ থেকে তিনি প্রকৃতি বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের সাথেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
তবে তার এই সামাজিক দায়বদ্ধতা কেবল সবুজের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তৃণমূল পর্যায়ে তরুণদের চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করতেও তিনি সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয় তরুণ সমাজকে ডিজিটাল স্ক্রিনের বাইরে এনে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং তাদের মাঝে নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে তিনি স্থানীয় পাঠাগারগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। একটি টেকসই সবুজ আগামীর জন্য তিনি যেমন মাটিতে গাছ লাগাচ্ছেন, ঠিক তেমনি তরুণদের মনে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তাদের চিন্তার জগতেও স্বপ্নের বীজ বুনছেন।
তানজিদ শুভ্র সৃজনশীলতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক চমৎকার মোহনায় দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি এমন সব গল্প লেখেন যা মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়, আর এমন সব উদ্যোগ নেন যা তরুণদের আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে। সাহিত্য, সংগঠন আর পরিবেশ রক্ষার এই বহুমাত্রিক পথচলায় তিনি প্রতিনিয়ত প্রমাণ করে চলেছেন সত্যিকারের সফলতা সেটাই, যা মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।










