
বিশ্বকাপের শিরোপার অপেক্ষা ইংল্যান্ডের প্রায় ছয় দশকের। ১৯৬৬ সালের পর আর কখনও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ‘থ্রি লায়ন্স’। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে এবার তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে লিওনেল মেসিদের হারাতে পারলেই কেবল ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে ইংলিশদের।
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি খেলছেন অসাধারণ ফুটবল। ছয় ম্যাচে আট গোল করে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষে রয়েছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা রয়েছে প্রতিপক্ষ শিবিরে।
তবে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড মনে করেন, কেবল মেসিকে ঘিরে পরিকল্পনা করলেই চলবে না। তার মতে, আর্জেন্টিনা একটি পরিপূর্ণ দল এবং পুরো দলকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মেসিকে থামানোর আলাদা কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পিকফোর্ড বলেন, ‘মেসিকে নিয়েই সবাই কথা বলবে, কারণ সে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু আমাদের নিজেদের দলের সামর্থ্য ও গুণগত মানও ভুলে গেলে চলবে না। আক্রমণ, মাঝমাঠ কিংবা রক্ষণ—প্রতিটি বিভাগেই আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাসী।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর্জেন্টিনার দলে শুধু মেসিই নয়, আরও অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে। তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল। তবে আমাদেরও শক্তিশালী আক্রমণভাগ রয়েছে, পাশাপাশি আমাদের রক্ষণভাগ ভাঙাও সহজ নয়। আমরা দল হিসেবে একতাবদ্ধ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং জয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলি। আর এ ধরনের মানসিকতাই একটি দলকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।’
সেমিফাইনালে তাই ব্যক্তিগত দ্বৈরথের চেয়ে দলগত লড়াইকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ইংল্যান্ড। পিকফোর্ডের বিশ্বাস, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে বহু প্রতীক্ষিত আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।










