
বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ব্যাংকে বড় অঙ্কের অর্থ জমা রাখার বাধা দূর করতে শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ব্যাংক গ্যারান্টি বা সলভেন্সির সহায়তা হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ ও নির্দেশনায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যারা কোরিয়া, জাপান, চায়না ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাবেন, তাদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা সলভেন্সি সাপোর্ট হিসেবে এই ঋণ প্রদান করা হবে।
এ উদ্দেশ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের এ সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শ্রমবাজারের একটি বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। যুদ্ধের কারণে সম্ভাব্য সংকট ও সুযোগ—উভয় বিষয় নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য ভবিষ্যতে শ্রমিকের চাহিদা বাড়তে পারে, যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
এছাড়া, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভাষাজ্ঞানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীও বরাবরের মতো তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ভাষাগত দক্ষতার অভাবে অনেকেই কম বেতনের চাকরিতে সীমাবদ্ধ থাকেন, অথচ ভাষা জানলে উন্নত বেতনের সুযোগ বাড়ে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হয়েছে। সেটি দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি জাপান ও ইউরোপে আরও বেশি জনশক্তি পাঠানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইউরোপের অনেক দেশের ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের ভারতে যেতে হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে বাংলাদেশে কনস্যুলার সেবা চালু করতে অনুরোধ জানাতে। ইতোমধ্যে কিছু দেশ বাংলাদেশে এ ধরনের সেবা দিচ্ছে, আর বাকি দেশগুলোতেও এটি নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।









