বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ফেব্রুয়ারিতেই দেশে ৯ বার ভূমিকম্প! কিসের ইঙ্গিত?

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

চলতি ফেব্রুয়ারিকে ভূমিকম্পের মাস বললে অত্যুক্তি হবে না। কারণ, এ মাসের গত ২৭ দিনে মোট নয়বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে গোটা দেশ। সর্বশেষ ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।  তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির অবস্থান ছিল ২৭ দশমিক ২১১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮ দশমিক ২১৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিমে।

ঘন ঘন এই ভূমিকম্প কিসের ইঙ্গিত?

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চল এবং দেশের ভেতরে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের সংখ্যা বাড়ছে। ভূতাত্ত্বিকভাবে এটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।

চলতি ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ভূকম্পনটা অনুভূত হয় মাসের প্রথম দিনেই (১ ফেব্রুয়ারি)। সেদিন ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট শহর থেকে পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে।

এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পরপর দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যেগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে। ওই দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯ এবং ৫ দশমিক ২।

একই দিন ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও ভূকম্পন অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।

এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি বিকালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এ দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩ এবং ৪।

১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে আবার সিলেট অঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা। এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।

সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত দেশে মোট নয় বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ঘন ঘন এই ভূমিকম্পের ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সবশেষ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬

এর আগে গতকাল বুধবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইএমএসসি ওয়েবসাইট অনুযায়ী রিখটার স্কেলে এর মাত্র ছিল ৫ দশমিক ১। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে। ভূমিকম্পটির অবস্থান ছিল ২৩ দশমিক ০৪১১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯৪ দশমিক ৭২৬৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০১ কিলোমিটার।

উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাংগাই অঞ্চলের মনিওয়া শহর থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে এবং মাওলাইক শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।

এছাড়া গত ২১ নভেম্বর দেশে বড় ধরনের একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। সেসময় ঢাকাসহ সারাদেশে ১০ জন মারা যান, আহত হন ছয় শতাধিক। পাশাপাশি অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুন