মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬

ফেনীর বন্যা দুর্ভোগ কমাতে একনেকে অনুমোদন পেল মুহুরী-কহুয়া নদী সংস্কার প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - ECNEC approves Muhuri-Kahua River Rehabilitation Project to reduce Feni flood woes
ফেনীর বন্যা দুর্ভোগ কমাতে একনেকে অনুমোদন পেল মুহুরী-কহুয়া নদী সংস্কার প্রকল্প/ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর বহুল আলোচিত মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন প্রকল্পে অবশেষে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে আলোচনায় থাকা এ প্রকল্পের অনুমোদনের মাধ্যমে ফেনীর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে বড় অগ্রগতি হলো।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মোট ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এ বাঁধ পুনর্বাসনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং কৃষি উৎপাদন সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের বন্যায় ফেনীর বিভিন্ন নদীতে অতিরিক্ত পলি জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন নদীর বাঁধ ও তীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে প্রতি বছর অতিভারী বর্ষণ ও উজানে ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পানিতে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও তীর শক্তিশালী করা এবং মুহুরি ও কহুয়া নদীতে পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে প্রকল্প এলাকায় সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, নদীভাঙন রোধ, জনসম্পদ রক্ষায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশে বলা হয়েছে, বেসরকারি অবকাঠামো, কৃষিজমিসহ ১৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকার সম্পত্তি সুরক্ষা, ৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৫ টন কৃষি, ১৫ টন মৎস্য ও ২৫ টন পোলট্রি রক্ষা করতে ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা, ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণসহ অন্যান্য নির্মাণকাজ করা হবে।

এটি ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুনে কাজ শেষ হবে। প্রকল্প এলাকা ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও সদর উপজেলা।

একনেকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘Supporting Infrastructure Project for Chinese Economic and Industrial Zone’, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘পদ্মা নদীর ভাঙন হতে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর ও কুমারখালী এলাকার সুরক্ষা (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, পরিকল্পনা মন্ত্রীর অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সম্বলিত চারটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ, নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সাভার স্থাপন, বিএএফ শাহীন কলেজ শমসেরনগরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ক্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রমের চতুর্থ পর্যায়।

একনেক সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন