মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ, রূপপুর কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ মিলবে ৬০ বছর

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

RisingCumilla - Rooppur plant
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এ আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের কাতারে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটি চালু হলে এর স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল হবে প্রায় ৬০ বছর। তবে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে আরও প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত এর কার্যক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব—ফলে মোট প্রায় ৯০ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।

প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজন ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল, যেখানে প্রতিটি বান্ডেলে রয়েছে ১৫টি করে জ্বালানি রড। ইতোমধ্যে ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৩টি ব্যবহার করা হবে এবং বাকি ৫টি সংরক্ষণে রাখা হবে।

জ্বালানি চুল্লিতে স্থাপন করতে সময় লাগবে আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুতের অন্যতম বড় সুবিধা হলো দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি ব্যবহার করা যায়। একবার জ্বালানি লোড করলে তা প্রায় দেড় বছর পর্যন্ত চলবে। এরপর পুরো জ্বালানি একসঙ্গে পরিবর্তন না করে ধাপে ধাপে এক-তৃতীয়াংশ করে প্রতিস্থাপন করা হয়।

তবে জ্বালানি লোডিং শেষ হলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে না। এর আগে শতাধিক নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। সব ধাপ সফলভাবে শেষ হলে কয়েক মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন