রবিবার ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা, ৯ ডিগ্রির ঘরে তাপমাত্রা

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Winter is intense in Panchagarh, room temperature at 9 degrees
পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা, ৯ ডিগ্রির ঘরে তাপমাত্রা/ছবি: সংগৃহীত

ঞ্চগড় জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডার প্রভাবে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৯ ডিগ্রির ঘরে। ফলে কয়েকদিন পর পরই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হচ্ছে এ জেলায়।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭১ শতাংশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায়।

গত কয়েক দিন ধরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমাগত কমে যাওয়ায় উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় শীতের প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই হালকা কুয়াশার সঙ্গে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। রাতভর হালকা থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পুরো এলাকা।

হিমেল বাতাসের সঙ্গে কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ।

শীতের কারণে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও কৃষিশ্রমিকরা। কনকনে ঠান্ডায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ রিকশা ও ভ্যানে উঠতে চাচ্ছেন না। এতে এসব শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সকালের ঠান্ডা বাতাসে কাবু হয়ে পড়া মানুষ গরম কাপড় পরে বের হচ্ছেন। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

শীতের তীব্রতায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগী কাশি, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায়। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। ফলে অনেক রোগীকে মেঝে কিংবা বারান্দায় অবস্থান নিতে হচ্ছে।

তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ অঞ্চলে এক বা দুইটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন