মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নবীনগরে মাইকিংকে কেন্দ্র করে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের শংকা

সঞ্জয় শীল,নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Rising Cumilla -Brahmanbaria
ব্রাহ্মণবাড়িয়া মানচিত্র/ছবি: রাইজিং কুমিল্লা সম্পাদিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের রুসুল্লাবাদ ইউনিয়নের লহরী গ্রামে হযরত দয়াল বাবা তিতু শাহ (রাহ:) দয়াল বাবা এনায়েত শাহ (রাহ) এর মাজারকে কেন্দ্র করে মাইকিং করায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানিয়দের দেয়া ভিডিও তথ্য মতে জানা যায়, গতকাল রবিবার (১৬ নভেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় মাজার কমিটির মত বিনিময় সভার নামে সোমবার (১৭ নভেম্বর ২০২৫) ৩ ঘটিকায় গ্রামবাসীকে মাইকিং করে মাজারে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইউনিয়ন যুব লীগের সভাপতি প্রার্থী ও রুসুল্লাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির হোসেনের বরাতে এ মাইকিং করা হয়েছে বলে মাইকিংয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানিয়দের দাবি, গত বছর মাজার কমিটি ও ঔরস পালন নিয়ে বিবাদ হলে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রাজিব চৌধুরী ও প্রাক্তন ওসি আব্দুর রাজ্জাকের উপস্থিতিতে তা মিমাংসা হলেও নতুন করে আবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা তৈরি হয়েছে। জানা যায়, স্থানিয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে মাজার কমিটি বিগত দিনে পরিচালিত হয়ে আসলেও গত ৫ আগষ্টের (৫ আগষ্ট ২০২৫) পর বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এতে বাধা দিলে বিপত্তি তৈরি হলে বিএনপিপন্থী ও মাজারের ভূমিদাতাদের সহযোগিতায় নতুন কমিটি তৈরি হয়। এর পর থেকে দুই পক্ষের মাঝে নিরব অন্তদ্বন্ধ চলছি কয়েক মাস ধরে।

স্থানিয় বাসিন্দা মো. শামীম জানান, উনারা যে এন মত বিনিময় করতে চাইতাছে ইতা নিয়া এন মারামারি অইতো ফারে। এই বিষয় নিয়া গ্রামবাসীরা আতংকে আছে।

মাজার কমিটির বর্তমান সভাপতি আব্দুল হাকিম মোমেন জানান, গত বছর মাজার নিয়া ঝামেলা হইছিলো। পরে ইউএনও আর ওসি স্যারের উপস্থিতিতে স্বপন মুচলেকা দিছিলো। তারপরও সে ( হাবিবুর রহমান স্বপন- আওয়ামী লীগ পন্থী) রুসুল্লাবাদ ইউনিয়নের চেয়াম্যান যুবলীগের সভাপতি খন্দকার মনির হোসেন পুরো আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়া ঝামেলা করতাছে। এতে যে কোন সময় দাঙ্গা-হাঙ্গামা হতে পারে।

রুসুল্লাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির হোসেনের সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি জানান, কমিটির ব্যাপারে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক রাজিব চৌধুরী বলেন, চেয়াম্যান মত বিনিময় সভা ডাকতেই পারেন, ইউএনও চেয়ারম্যানকে দায়িত্বই দিয়েছি এটার সমাধান করার জন্যে।

বর্তমানে মাইকিংয়ের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্ক আর সংঘর্ষের ভয়ে অনেকেই দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন