রবিবার ১২ এপ্রিল, ২০২৬

নতুন নিয়মে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন, প্রতিদিন প্রবেশ সীমা ২ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Saint Martin
সেন্টমার্টিন/ছবি: সংগৃহীত

পর্যটকদের জন্য সুখবর! আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে এবার ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান এই তথ্য জানান।

সচিব বলেন, সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের কারণে সেখানকার পরিবেশের অনেক উন্নতি হয়েছে, যা ভ্রমণকারীরা এবার গেলেই দেখতে পারবেন।

নতুন নিয়ম ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া

মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিদিন ২ হাজার পর্যটককে সেন্টমার্টিনে যেতে দেওয়ার জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পর্যটকদের রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। যদিও রেজিস্ট্রেশনের সফটওয়্যার তৈরির কাজ এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রস্তুতি শেষ হলেই ভ্রমণপিপাসুরা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশীরউদ্দিন জানান, দেশের পর্যটন শিল্পকে রক্ষার জন্য সরকার একটি পর্যটন নীতিমালা তৈরি করছে, যা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এর আগে, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পর্যটকদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি যৌথ কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে সেন্টমার্টিনে যেতে হলে পর্যটকদের নিবন্ধনসহ নানা বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।

এরপর ৯ মাসের জন্য সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সে সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছিলেন, দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেন্টমার্টিনকে স্থানীয় জনগণ-কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়েছিলেন যে এই প্রয়াসকে ভিন্নপথে পরিচালিত করার কোনো সুযোগ নেই এবং সরকার নতুন কিছু নয়, বরং বহু পুরোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।

ভ্রমণ বন্ধ থাকার কারণে দ্বীপের পর্যটন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল। পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় জেটিঘাটে সুনসান নীরবতা দেখা যায় এবং জাহাজ কর্মচারীরা বেকার সময় পার করায় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বিপাকে পড়েন।

আরও পড়ুন