শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬

নতুন আইনে বাতিল হচ্ছে সাত ধরনের দলিল, রয়েছে জেল ও অর্থদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla -Land and land documents
ছবি: সংগৃহীত

দেশে জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি, প্রতারণা এবং অবৈধ দখল রোধে প্রণীত হতে যাচ্ছে দুটি যুগান্তকারী আইন—‘ভূমি ব্যবহার স্বত্ব আইন’ এবং ‘ভূমি অপরাধ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’। এই নতুন আইনের আওতায় জমির বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাত ধরনের দলিলকে বাতিল করার বিধান রাখা হয়েছে, যার ফলে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত হবে।

নতুন আইনের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হলো রেজিস্ট্রিবিহীন বা বৈধ সিল-সাক্ষরবিহীন দলিলসমূহ। এ ধরনের দলিলগুলো সরকারকে কোনো প্রকার ফি প্রদান করে না এবং আইনের দৃষ্টিতে কোনো বৈধতাও পায় না। নতুন আইন কার্যকর হলে এই ধরনের দলিল কার্যকর থাকবে না।

জমি ক্রয়-বিক্রয়, হেবা বা দান, বন্ধককৃত সম্পত্তি বা উত্তরাধিকার ভিত্তিক বাটোয়ারা—সব ধরনের লেনদেনকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। এমনকি বায়না দলিলও রেজিস্ট্রির মাধ্যমেই আইনগত বৈধতা লাভ করে।

দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য নিম্নলিখিত তথ্য ও শর্তাবলী অবশ্যই পূরণ করতে হবে:

জমির সম্পূর্ণ বিবরণ, মালিকানা ইতিহাস ও সীমানা। জমির নকশা। দাতা-গ্রহীতার নাম ও ঠিকানা। প্রয়োজনীয় হলফনামা।আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রি ফি, কর, ভ্যাট ও আয়কর যথাযথভাবে জমা দিতে হবে।

নতুন আইন অনুসারে, শুধু রেজিস্ট্রিবিহীন দলিলই নয়, জাল খতিয়ান বা জাল দলিল তৈরি করেও এখন আর কেউ অন্যের সম্পত্তি দখল করতে পারবে না। উদাহরণস্বরূপ, খাস জমি বেআইনিভাবে দখল করে জাল দলিল তৈরি করলে সেটি তাৎক্ষণিক বাতিল বলে গণ্য হবে। এছাড়াও, অন্যের ওয়ারিশদের অধিকার বঞ্চিত করে সম্পত্তি বিক্রি করলে সেই দলিলও আর বৈধতা পাবে না।

আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচার ও শাস্তির জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ভূমি অপরাধ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে দলিল জালিয়াতি, অবৈধ দখল ও প্রতারণার জন্য কঠোর দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। শাস্তির মধ্যে রয়েছে:

কারাদণ্ড: তিন মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত।

অর্থদণ্ড: ১০ হাজার টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

নতুন এই আইন কার্যকর হলে জমির বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। এর মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত প্রতারণা ও জালিয়াতির সুযোগ প্রায়শই শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে, যা দেশে একটি স্থিতিশীল ভূমি ব্যবস্থাপনার ভিত্তি স্থাপন করবে।

আরও পড়ুন