
ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের বাস্তবতায় নগর স্বাস্থ্যসেবাকে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূলধারায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাঠামোর আওতায় এনে নতুনভাবে সাজানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘টেকসই এসআরএইচআর ইকোসিস্টেম’ বিষয়ে আয়োজিত জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিএসও ফোরামের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে শহুরে জনসংখ্যা ছিল ১০ শতাংশেরও কম। সে সময় স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল মনোযোগ ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দিকে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এ হার ৫০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ফলে নগর স্বাস্থ্যসেবাকে বাদ দিয়ে টেকসই জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘আমরা শুধু আজকের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ছি না, আগামী দিনের কথাও ভাবছি। তাই নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাস্তবতার নিরিখে।’
তিনি জানান, এত দিন নগর স্বাস্থ্যসেবা মূলত সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। বিদ্যমান ব্যবস্থার নমনীয়তা ও ইতিবাচক দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকারের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
নতুন কাঠামোয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর যৌথভাবে নগর স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বর্তমানে থাকা প্রায় ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে নতুন কর্মীদের একই কাঠামোর আওতায় এনে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মীদের আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-চালিত ডিজিটাল অ্যাপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে পারবেন বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
নগরের নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরের ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতি ৫০ হাজার থেকে এক লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে ইউনিট নির্ধারণ করে নগর স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা সাজানো হবে।
নগর স্বাস্থ্যসেবার নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার তাগিদ দেন ড. এম এ মুহিত। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে এমন একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর দেশের নগর জনগোষ্ঠীকে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা দিতে সক্ষম হবে।
সভায় সিএসও ফোরামের আহ্বায়ক ও আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. সায়েদ রুবাইয়েত সঞ্চালনা করেন। এতে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত রেহানা।










