
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে (৫২) আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে পুলিশকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। ওই আদেশের পর ৪ আগস্ট কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
পরে হাফিজুর রহমানের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। ৬ আগস্ট চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। একই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু।
পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ধর্ষণের পর তনুকে হত্যা করা হয়েছে।
পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন—ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সাবেক অফিস সহায়ক—বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘদিন পর মামলার তদন্তে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় ২০১৬ সালে তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান তিনি।










