মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকা-কুমিল্লা হচ্ছে ৮১ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ, চট্টগ্রামের দূরত্ব কমবে ৮০ কিমি

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - New 81-km elevated railway from Dhaka to Cumilla, Distance to Chattogram to be reduced by 80 km.
ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন ৮১ কিমি উড়াল রেলপথ: চট্টগ্রামের দূরত্ব কমবে ৮০ কিমি/প্রতীকী ছবি/সংগৃহীত

ঢাকার শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন কর্ডলাইন বা বিকল্প রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত রেলপথটি সম্পূর্ণ উড়ালপথ হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে। পাশাপাশি যাতায়াতে সময় বাঁচবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমেও অবহিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা জানান, প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চার বছর সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে রেলপথটি সম্পূর্ণ উড়াল কাঠামোয় নির্মিত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ উড়াল রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। গত ৫ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়।

তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, পুরো রেলপথ উড়াল কাঠামোয় নির্মাণ করা হলে প্রায় ৩২২ একর জমি সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে, মাটির বাঁধ ও উড়াল কাঠামোর সমন্বয়ে রেলপথটি নির্মাণ করা হলে সম্ভাব্য ব্যয় হতো প্রায় ৭৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা।

সম্পূর্ণ উড়ালপথ নির্মাণের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে মিশ্র কাঠামোর তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জমি সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির কারিগরি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানানো হয়, প্রস্তাবিত রেলপথে ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার সুযোগ থাকবে। ডাবল ট্র্যাকের ব্রডগেজ রেলপথটি ২৫ টন এক্সেল লোড বহনে সক্ষম করে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নকশা অনুযায়ী, রেলপথটির সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। তবে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার।

প্রস্তাবিত কর্ডলাইনটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগে দূরত্ব ও সময় কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্রুতগতির এবং বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত কাঠামো, ব্যয় ও বাস্তবায়ন সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

আরও পড়ুন