বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

টয়লেট ব্যবহারে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক

Rising Cumilla -toilet
টয়লেট ব্যবহারে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন/প্রতীকি ছবি/পেক্সেল

পাবলিক বা শেয়ার করা টয়লেট ব্যবহার নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ভীতির শেষ নেই। বিশেষ করে শত শত মানুষের ব্যবহৃত কমোড বা প্যানে বসার সময় অনেকেই শঙ্কিত থাকেন—এখান থেকে কি কোনো দুরারোগ্য ব্যাধি শরীরে বাসা বাঁধতে পারে? জীবাণুর স্থায়িত্ব এবং সংক্রমণের সম্ভাবনা নিয়ে সমাজে নানা ধারণা প্রচলিত থাকলেও মাইক্রোবায়োলজিস্টরা কিছুটা স্বস্তির কথাই শোনাচ্ছেন। তাঁদের মতে, টয়লেট সিট থেকে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি সাধারণত অত্যন্ত কম, তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টয়লেট সিটের ঠান্ডা ও কঠিন পৃষ্ঠে অনেক জীবাণুই বেশিক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে না। ফলে নিচের রোগগুলো ছড়ানোর আশঙ্কা খুবই ক্ষীণ:

যৌনবাহিত রোগ (STDs):

গনোরিয়া বা ক্ল্যামিডিয়ার মতো রোগগুলো সাধারণত শরীরের সরাসরি তরল বিনিময়ের মাধ্যমে ছড়ায়। টয়লেট সিটের পরিবেশে এই জীবাণুগুলো দ্রুত মারা যায়, তাই এখান থেকে সরাসরি সংক্রমণের ভয় নেই।

সিটে রক্ত লেগে থাকলে তা সাধারণত দৃশ্যমান হয় এবং মানুষ তা এড়িয়ে চলেন। ইনজেকশন বা সরাসরি যৌন সংস্পর্শ ছাড়া রক্তবাহিত জীবাণু ছড়ানো বেশ কঠিন।

সাধারণ ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI):

মল থেকে জীবাণু মূত্রনালীতে প্রবেশ করার বিষয়টি তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হলেও বাস্তবে এর জন্য যে পরিমাণ মলের সংস্পর্শ প্রয়োজন, তা সাধারণত ঘটে না। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাবেই মূলত ইউটিআই বেশি হয়।

যদিও ঝুঁকি কম, তবুও অপরিষ্কার বা অস্বাস্থ্যকর টয়লেট সিট থেকে নির্দিষ্ট কিছু রোগ বা সংক্রমণের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না:

হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV):

এই ভাইরাসটি বেশ শক্তিশালী এবং বিভিন্ন পৃষ্ঠে এক সপ্তাহ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। তবে শরীরে কোনো ক্ষত বা র‍্যাশ না থাকলে এটি সংক্রমণের সুযোগ পায় না। সাধারণ অবস্থায় ঝুঁকি কম হলেও এটি অসম্ভব নয়।

ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস ও ক্যানডিডিয়াসিস:

নারীদের ক্ষেত্রে অপরিষ্কার কমোড ব্যবহারের ফলে যোনিতে ব্যাকটেরিয়া বা ইস্টের (ছত্রাক) সংক্রমণ ঘটতে পারে। এর ফলে যোনিতে চুলকানি, জ্বালাপোড়া এবং দুর্গন্ধযুক্ত সাদা স্রাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI):

খুব বেশি অপরিষ্কার টয়লেট সিট থেকে জীবাণু মূত্রনালী, মূত্রাশয় এবং কখনো কখনো কিডনিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রোস্টাটাইটিস:

পুরুষদের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণে প্রোস্টেট গ্রন্থি ফুলে যেতে পারে, যার ফলে যৌনাঙ্গ ও কুঁচকিতে ব্যথা এবং ফ্লু-এর মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

হারপিস ও অন্যান্য এসটিডি:

হারপিস আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহারের পরপরই টয়লেট ব্যবহার করলে সামান্য ঝুঁকি থাকে। এছাড়া অত্যন্ত অপরিষ্কার টয়লেট (হোক তা পাবলিক বা ব্যক্তিগত) থেকে ত্বকের সংস্পর্শে কিছু যৌন রোগের জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।

মাইক্রোবায়োলজিস্টদের মতে, টয়লেট সিট নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কোনো বিশেষ কারণ নেই। অধিকাংশ ভয়াবহ রোগ এখান থেকে ছড়ায় না। তবে সুস্থ থাকতে কিছু সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি:

দৃশ্যত অপরিষ্কার টয়লেট এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। বসার আগে প্রয়োজনে সিটটি টিস্যু বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। ২. হাত ধোয়া: টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ৩. ব্যক্তিগত সতর্কতা: অতিরিক্ত ভয় বা বিভ্রান্তিতে না পড়ে যুক্তিসঙ্গত সতর্কতা অবলম্বন করুন।

পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে নিরাপদ থাকতে সচেতনতাই মুখ্য। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে রোগবালাই থেকে সহজেই দূরে থাকা সম্ভব।

আরও পড়ুন