সোমবার ২৯ জুন, ২০২৬

জুলাই-জুন নয়, অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Dr. Shafiqur Rahman in Parliament
ডা. শফিকুর রহমান/ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে প্রতি চার মাস পরপর সংসদে বাজেটের পর্যালোচনা করারও সুপারিশ করেন তিনি।

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

ড. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে জুলাই থেকে জুন অর্থবছর হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কেবল বিল-ভিত্তিক হিসাব সম্পন্ন হয়। তাই ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণ করা উচিত। এছাড়া অর্থবছর শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে সম্পূরক বাজেট উপস্থাপনেরও আহ্বান জানান তিনি।

বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অল্প সময়ে বাজেট প্রণয়ন করা অর্থমন্ত্রীর জন্য কঠিন ছিল। তবে অর্থমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। বাজেটে প্রস্তাবিত অনেক বিষয়ে সংশোধনের দাবি থাকলেও তার কিছু গ্রহণ করা হলে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হতো।

তিনি বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাজেটে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। পাচার হওয়া অর্থের মাত্র এক-নবমাংশ ফিরিয়ে আনা গেলেও বাজেট ঘাটতি থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজস্ব আদায়ে ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা বিপদের সময় সরকারের সহযোগিতা পেলে দেশের প্রয়োজনে আরও বেশি কর দিতে আগ্রহী হবেন। তিনি বলেন, খুব অল্পসংখ্যক ব্যবসায়ী অসৎ, তবে অনেককে বিভিন্ন কারণে অসৎ হতে বাধ্য করা হয়।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণাভিত্তিক না হলে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবেই থেকে যাবে। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করার পরিবর্তে নিজস্ব গবেষণা ও উদ্ভাবনের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

এ সময় শুধু খেতাবপ্রাপ্ত নয়, দেশের সব মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বৃদ্ধিরও সুপারিশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

আরও পড়ুন