রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

চাঁদপুরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নদীর পাঙাশের পোনা, বাড়ছে উদ্বেগ

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla -River carp fry being sold freely in Chandpur, no monitoring
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের নদী উপকূলীয় বিভিন্ন মাছঘাট, আড়ত ও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ আকারের পাঙাশের পোনা। আইনে ৩০ সেন্টিমিটারের নিচের পাঙাশ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে এ নিয়ম মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রকাশ্যেই চলছে এসব পোনা মাছের কেনাবেচা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের ওয়ারলেছ বাজার, পালবাজার, বিপনীবাগ বাজার, মিশন রোড মোড় ও বহরিয়া বাজারে নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে ছোট আকারের পাঙাশ। এছাড়া লালপুর, আনন্দ বাজার, চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, বহরিয়া মৎস্য আড়ত ও হরিণা মাছঘাটেও প্রকাশ্যে এসব মাছ বিক্রি করতে দেখা যায়।

বর্তমানে বাজারে বড় আকারের পাঙাশ প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও ছোট পাঙাশের পোনা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে। ফলে কম দামে বিক্রি হলেও বিপুল পরিমাণ পোনা বাজারে আসছে।

হরিণা ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া বলেন, “ইলিশ ধরার জালে ছোট আকারের পাঙাশও ধরা পড়ে। আগে এ মাছ কম পাওয়া গেলেও এখন তুলনামূলক বেশি ধরা পড়ছে। আড়তে ইলিশ ও পাঙাশের পোনা আলাদা দামে বিক্রি হয়।”

ঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, “গত বছর এ সময় নদীতে প্রচুর ছোট ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল। এবার ইলিশ কম মিললেও ছোট পাঙাশ বেশি ধরা পড়ছে। তবে পাঙাশের পোনা না ধরাই ভালো। বড় হলে জেলেরা আরও বেশি দাম পেতে পারেন।”

হরিণা ঘাট থেকে পোনা কিনে শহরের বাজারে বিক্রি করেন খুচরা ব্যবসায়ী শাহজাহান। তিনি জানান, “আজ ৬০০ টাকা কেজি দরে ৪ কেজি পাঙাশের পোনা কিনেছি। এগুলো শহরে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করব।” সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ঘাটে প্রতিদিন কয়েক মণ পাঙাশের পোনা কেনাবেচা হয়।

এদিকে মৎস্য বিভাগের দাবি, লোকবল ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তার অভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিষিদ্ধ পাঙাশের পোনা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “৩০ সেন্টিমিটারের নিচের পাঙাশ ধরা ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জাটকা সংরক্ষণে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছি। বর্তমানে লজিস্টিক সংকট থাকলেও সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে পাঙাশের পোনা আহরণ ও বিক্রি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নদীর প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

আরও পড়ুন