শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর চুক্তিতে স্বচ্ছতার জোরদাবি জানাল টিআইবি

রাইজিং ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দর চুক্তিতে স্বচ্ছতার জোরদাবি জানাল টিআইবি
চট্টগ্রাম বন্দর চুক্তিতে স্বচ্ছতার জোরদাবি জানাল টিআইবি/ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়ন ও বিদেশি বিনিয়োগের সাম্প্রতিক চুক্তিগুলোকে দেশের জন্য সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চুক্তিপ্রক্রিয়ার সকল তথ্য অবিলম্বে প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস এবং সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএর সঙ্গে লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনাল সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফার উদ্দেশ্যেই বিনিয়োগ করে; তাই সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি লাভ-ক্ষতি, জাতীয় স্বার্থ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা জনসম্মুখে আনতে হবে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও অপারেটর নিয়োগের যেসব তড়িঘড়ি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো কি এড-হক ভিত্তিতে, নাকি কোনো দীর্ঘমেয়াদি বন্দর উন্নয়ন কৌশলের অংশ তা এখনো অস্পষ্ট।

এপিএম টার্মিনালসকে কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোন মানদণ্ডে নির্বাচন করা হয়েছে, ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক রেকর্ড বিবেচনা করা হয়েছে কি না—এসব তথ্যও সরকারকে স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইএফসির প্রতিবেদনে প্রস্তাব জমা থেকে চুক্তি চূড়ান্ত করতে ৬২ দিনের সময়সীমা থাকলেও বাস্তবে মাত্র দুই সপ্তাহে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হওয়াকে “অস্বাভাবিক দ্রুত” বলে উল্লেখ করে টিআইবি। সংস্থাটি বলেছে, এত দ্রুততার কারণে চুক্তিপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার যৌক্তিকতা তৈরি হয়েছে এবং সরকারের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এখন জরুরি।

টিআইবি আরও জানতে চায়—পানগাঁও টার্মিনালে প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও লালদিয়ায় ব্যতিক্রম কেন হলো, দেশীয় অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে কি না, বিনিয়োগ থেকে বিদেশি অপারেটরের সম্ভাব্য মুনাফার বিপরীতে রাষ্ট্র কী অর্জন করবে তার কস্ট-বেনিফিট বিশ্লেষণ করা হয়েছে কি না।

ড. জামান বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান অবিলম্বে জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।

আরও পড়ুন