বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, ২০২৬

খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণ: নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি টিআইবির

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

জাতিসংঘে বিশাল প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে কর্তৃত্ববাদী চর্চার পুনরাবৃত্তি: টিআইবি

খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে ঘটনার দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের প্রাথমিকভাবে মামলা করতে অনাগ্রহী হওয়া সাংবাদিক সমাজে বিদ্যমান নিরাপত্তাহীনতা, ভীতির সংস্কৃতি এবং বিচারপ্রাপ্তির বিষয়ে আস্থার সংকটের প্রতিফলন।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, হামলাটি কোনো নির্দিষ্ট সাংবাদিক বা কোনো বিশেষ প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা নিঃসন্দেহে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর আঘাত।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের প্রভাব বা বিলম্ব ছাড়াই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি হামলার উদ্দেশ্য, হামলাকারীদের পরিচয় এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে উদঘাটনের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শুধু মামলা দায়ের করাই যথেষ্ট নয়; বরং কার্যকর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় অতীতের অনেক ঘটনার মতো এটিও বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করতে পারে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের মামলা করতে অনীহার বিষয়টিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটি প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা, নিরাপত্তাহীনতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে আস্থার সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রেক্ষাপটে হামলাকারীদের শনাক্ত করা অসম্ভব হওয়ার কথা নয়। তাই দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

টিআইবি মনে করে, যে পরিবেশে হামলার শিকার ব্যক্তিরাই ন্যায়বিচার চাইতে ভয় পান, সেখানে স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রতিটি হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন