শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুমিল্লার সব ইউনিয়নে বইছে ইউপি নির্বাচনের হাওয়া, প্রার্থী চূড়ান্ত প্রায় জামায়াতের

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

Rising Cumilla - ec
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার সব ইউনিয়নে শুরু হয়েছে নির্বাচনী তোড়জোড়। সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ, দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সমর্থন আদায়ের তৎপরতা বেড়েছে।

আগামী নভেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এরই মধ্যে কুমিল্লার ১৮টি উপজেলার ১৯৩টি ইউনিয়নের ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পেতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

কুমিল্লার প্রায় সব ইউনিয়নেই বিএনপির একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে মাঠে নেমেছেন। গণসংযোগের পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন ও সমর্থন পেতে তৎপর রয়েছেন তারা।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীকে অনেকটাই নির্ভার অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। দলটির স্থানীয় নেতাদের দাবি, অধিকাংশ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে একজন করে প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগও থাকবে না বলে জানিয়েছেন নেতারা।

এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকেও এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার বাবা এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। আমি ফ্যাসিস্ট আমলে নির্বাচন করেছি, আমাকে জোর করে হারানো হয়েছে। দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। আশা করছি, দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’

একই ইউনিয়নে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহজাহান বলেন, ‘এই এলাকার মানুষ আমাকে দুবার নির্বাচিত করেছেন। অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে আমি নির্বাচন করব।’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর মু. শাহজাহান বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আমরা এককভাবে করব। আমাদের একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই।’

নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লার বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ায় স্থানীয় রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন দল কাকে মনোনয়ন দেবে এবং কারা নির্বাচনের মাঠে থাকবেন, তা দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপেই স্পষ্ট হবে।

এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টিতে আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের বাধ্যবাধকতার কারণে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করতে হচ্ছে। বিভিন্ন বার্ষিক পরীক্ষা ও ধর্মীয় উৎসব বিবেচনা করে সাত ধাপে ভোট গ্রহণের এই প্রাথমিক সূচি তৈরি করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপ, ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপ এবং ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপের ভোট গ্রহণের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রথম পাঁচটি ধাপেই অধিকাংশ ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপ মূলত সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা বা অন্যান্য কারণে পিছিয়ে পড়া ৫৬টিসহ বাকি ইউনিয়নগুলোর জন্য।

প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও ব্যতীত বাকি ৬৩টি জেলার আনুমানিক ৮০টি উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে প্রথম ধাপে ভোট হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে একটি উপনির্বাচন থাকায় সেখানকার কার্যক্রম দ্বিতীয় ধাপে স্থানান্তর করা হয়েছে। সাধারণত জেলার সদর উপজেলাগুলোকে প্রথম ধাপে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

তবে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার মতো অধিক উপজেলা বেষ্টিত জেলাগুলোতে ৩টি করে এবং ১০ বা ততোধিক উপজেলা থাকা জেলায় ২টি করে উপজেলাকে প্রথম ধাপে রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন