বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬

কুমিল্লায় বেসরকারি হাসপাতালে যৌথ অভিযান, অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা ও কঠোর নির্দেশনা

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

Rising Cumilla -Joint raid on private hospitals in Comilla
কুমিল্লায় বেসরকারি হাসপাতালে যৌথ অভিযান, অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা ও কঠোর নির্দেশনা

কুমিল্লা নগরীতে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যৌথ মোবাইল কোর্ট ও মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করেছে কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা প্রশাসন। অভিযানে সরকারি আদেশ অমান্য করে ল্যাবের কার্যক্রম চালু রাখায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৪টা থেকে শহরের রেসকোর্স ও ঝাউতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই এবং নতুন অনিয়ম প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে বুধবারের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে রেসকোর্স এলাকার এভারগ্রীন হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ল্যাবের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা অমান্য করে ল্যাব চালু রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

একই এলাকায় ডেল্টা হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন না থাকা এবং ক্যাটাগরির বাইরে ল্যাব পরীক্ষা পরিচালনার কারণে পূর্বে ল্যাব সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিদর্শনে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কার্যক্রম চালু রাখার প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে আরও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে মিশন হাসপাতালের ল্যাব সেবা বন্ধের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করতে দেখা গেছে। পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠানটির ল্যাব তালাবদ্ধ এবং সেবা বন্ধ ছিল। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলায় বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।

প্রাইম হাসপাতালে পূর্ব অনুমোদন ছাড়া স্থান পরিবর্তনের কারণে সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযানে স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালু থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরিদর্শনের সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা মালিকপক্ষের কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এ ছাড়া হিউম্যান হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ পাওয়া যায়। রোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি নেওয়া হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে মূল্যতালিকা ও ক্যাশ মেমোও পরীক্ষা করা হয়। সার্বিক ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক পাওয়া গেছে।

জনতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স সঠিক পাওয়া গেলেও নিয়মিত নবায়নের মাধ্যমে তা হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ল্যাবের ফ্রিজের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র দ্রুত সচল বা মেরামত এবং পরিচ্ছন্নতার মান আরও উন্নত করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, সাধারণ রোগীদের জীবন ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিধি-বিধান বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের যৌথ মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ পরিদর্শন অভিযান ভবিষ্যতেও কুমিল্লা জেলাজুড়ে নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন