বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬

কুমিল্লায় গ্রাম আদালত কার্যক্রমে শীর্ষে ব্রাহ্মণপাড়া, পিছিয়ে মনোহরগঞ্জ

মোঃ বাছির উদ্দিন, ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি

Rising Cumilla - Brahmanpara tops in village court activities in Comilla, Manoharganj lags behind
কুমিল্লায় গ্রাম আদালত কার্যক্রমে শীর্ষে ব্রাহ্মণপাড়া, পিছিয়ে মনোহরগঞ্জ/ছবি: রাইজিং কুমিল্লা সম্পাদিত

কুমিল্লায় গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) কুমিল্লা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষ ও নজরুল মিলনায়তনে পৃথকভাবে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. মেহেদী মাহমুদ আকন্দ। এতে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল হোসেন ও নির্মল রায় গ্রাম আদালত কার্যক্রমের বিভিন্ন বিশ্লেষণধর্মী তথ্য ও উপাত্ত উপস্থাপন করেন। উপস্থাপনায় উপজেলা ও ইউনিয়নভিত্তিক গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, মামলার নিষ্পত্তির হার, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং সেবার মানোন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।

উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, জুলাই ২০২৫ থেকে এপ্রিল ২০২৬ সময়কালে বিভিন্ন উপজেলায় প্রতি ইউনিয়নে গড় মামলা গ্রহণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর মধ্যে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। সেখানে প্রতি ইউনিয়নে গড়ে ৫ দশমিক ২৬টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, যেখানে গড়ে মামলা গ্রহণের সংখ্যা ৪ দশমিক ৬৮। এছাড়া আদর্শ সদর উপজেলায় ৪ দশমিক ৬৭ এবং লাকসামে ৪ দশমিক ৩৪টি মামলা গ্রহণ হয়েছে। অন্যদিকে মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সর্বনিম্ন গড়ে ১ দশমিক ৮০টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

ইউনিয়নভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৭৫টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে, যা গড়ে ৭ দশমিক ৫০। এছাড়া শিদলাই ইউনিয়নে ৬৮টি এবং চৌদ্দগ্রামের কালিকাপুর ইউনিয়নে ৬৩টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালত পরিচালনায় বিদ্যমান নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তারা জানান, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের সমন বা নোটিশকে গুরুত্ব না দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এছাড়া গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত কিছু মামলা থানায় গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠে আসে।

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য অনেক মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি না করে স্থানীয়ভাবে সমাধানের প্রবণতাও রয়েছে বলে আলোচনা হয়। অনেক ইউনিয়নে নির্ধারিত এজলাসে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা না করা এবং এজলাস ব্যবহারে অনীহার বিষয়টিও উঠে আসে।

সভাপতির বক্তব্যে মো. মেহেদী মাহমুদ আকন্দ বলেন, মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে, তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আরও পড়ুন