শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

এনবিআর চালু করল ‘অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড মডিউল’

রাইজিং কুমিল্লা অনলাইন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) | ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতাদের জন্য পদক্ষেপ হিসেবে ‘অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড মডিউল’ চালু করেছে। এই নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে ভ্যাট (মূসক) ফেরত বা রিফান্ড প্রক্রিয়া, অর্থাৎ আবেদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ স্থানান্তর—সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে।

নতুন এই অনলাইন মডিউলটি বিদ্যমান ভ্যাট ব্যবস্থাপনার দুটি প্রধান সিস্টেমের মধ্যে সফলভাবে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করেছে:

  • ইন্টিগ্রেটেড ভ্যাট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সিস্টেম (iVAS)
  • অর্থ বিভাগের আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) সিস্টেম

এই আন্তঃসংযোগের ফলে, করদাতার প্রাপ্য ভ্যাট রিফান্ডের অর্থ বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (BEFTN) এর মাধ্যমে কোনো প্রকার ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরাসরি করদাতার নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।

অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড মডিউলের মাধ্যমে করদাতারা মূসক রিটার্ন দাখিলের সময় প্রাপ্য ভ্যাট ফেরতের আবেদন করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারেট আবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে অনলাইনে অনুমোদন দিলে অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। এই প্রক্রিয়ায় করদাতাদের ভ্যাট অফিসে গিয়ে রিফান্ড আবেদন বা চেক গ্রহণ করতে হবে না- ফলে সময় ও খরচ সাশ্রয় হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

এনবিআর জানিয়েছে, মডিউলের মাধ্যমে নতুন আবেদন জমা দেওয়ার সুবিধার্থে, পূর্বে ম্যানুয়াল বা অনলাইন পদ্ধতিতে দাখিলকৃত সকল অনিষ্পন্ন রিফান্ড আবেদনগুলো বাতিল করা হয়েছে। এই আবেদনগুলোর অর্থ পুনরায় পাওয়ার জন্য করদাতাদের মূসক-৯.১ ফরমে নতুন করে অনলাইনে আবেদন দাখিল করতে হবে।

অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ইতোমধ্যে সকল ভ্যাট কমিশনারেট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। করদাতারা প্রয়োজনে তাদের সংশ্লিষ্ট কমিশনারেট অফিসে যোগাযোগ করে অনলাইনে রিফান্ড প্রাপ্তি সম্পর্কিত তথ্য ও সহযোগিতা নিতে পারবেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বলছে, এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এনবিআর আশা করে, ভবিষ্যতে সব কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং করদাতাদের উন্নত ও ঝামেলামুক্ত সেবা প্রদান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন