শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

এনআইডি সংশোধনে বড় পরিবর্তন, জন্ম তারিখ সংশোধন হবে ডিজি পর্যায়ে

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - NID
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী জন্ম তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের আবেদন এখন আর মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে না; বরং সরাসরি এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়।

অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর নতুন এসওপি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী জন্ম তারিখ বা জন্ম তারিখসহ অন্য যেকোনো তথ্য সংশোধনের আবেদন ‘ঘ’ ক্যাটাগরি হিসেবে গণ্য হবে।
এর আগে আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা এসব আবেদন ‘ক’, ‘খ’ বা ‘গ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির ক্ষমতা রাখতেন।

প্রজ্ঞাপন জারির আগে মাঠ পর্যায়ে জমা পড়া এবং পূর্বে ক্যাটাগরি নির্ধারিত আবেদনগুলোও এখন পরিবর্তন করে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করতে হবে। অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করে মহাপরিচালক পর্যায়ে এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য পাঠাবেন।

মাঠ পর্যায়ের জন্য তিন নির্দেশনা

নতুন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইসি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য তিনটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে—

১. জন্ম তারিখ সংক্রান্ত যেসব আবেদন আগে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ছিল, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।
২. প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদনের ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করবেন।
৩. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সংশোধন কার্যক্রম সীমিত থাকায় বর্তমানে জমে থাকা অনিষ্পন্ন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কেন্দ্রীয়ভাবে আবেদনগুলোর ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং ডিজি পর্যায়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ফলে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে।

তবে মাঠ পর্যায় থেকে সব ফাইল প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হলে কাজের চাপ বাড়তে পারে কি না— সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কিছুটা সংশয় রয়েছে। এ অবস্থায় আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন