
আগামী দুই দিনে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ভারতের উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর প্রভাবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত পূর্বাভাসে কেন্দ্র জানায়, বর্তমানে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ধরলা নদীর পানি কিছু স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে, যার ফলে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন ধরে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী তিন দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
এ ছাড়া সোমেশ্বরী, কংস ও ভুগাই নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোনার কিছু স্থানে সোমেশ্বরী নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একইসঙ্গে ভুগাই ও কংস নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছালে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুই দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।










