
ঈদ পরবর্তী সময়ে সেতুর জরুরি মেরামত কাজের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেন চারদিন বন্ধ রাখা হবে। পরবর্তী সময় আরও কয়েকদিন একলেনে যানচলাচল চালু থাকবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এতে ঈদের ফিরতি যাত্রায় যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছুটা দুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে সড়ক বিভাগ বলছে, এবার ঈদে দীর্ঘ ছুটি থাকায় ঈদের পরপরই সড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচল সীমিত থাকে। এসব বিবেচনায় নিয়েই মেরামতের জন্য এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফেনী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর সেতুর মেরামত কাজ আগামী ২২ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে ২২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রামমুখী লেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এরপর ২৬ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এক লেন দিয়ে যানচলাচল পরিচালিত হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কয়েকটি বিকল্প সড়ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের র্যাব ক্যাম্প সংলগ্ন ইউটার্ন থেকে রামপুর ব্রিজের পরবর্তী ইউটার্ন পর্যন্ত দুই লেনকে সাময়িকভাবে একমুখী ব্যবহার; ফতেহপুর স্টারলাইন পাম্প হয়ে সালাউদ্দিন মোড়, ট্রাক রোড, জিরো পয়েন্ট হয়ে লালপোল; বিসিক মোড় (গ্যাস কোম্পানি) হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মোড়, সালাউদ্দিন মোড়, ট্রাক রোড, জিরো পয়েন্ট হয়ে লালপোল; এবং মহিপাল শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়ক হয়ে ট্রাক রোড, জিরো পয়েন্ট হয়ে লালপোল সংযোগ সড়ক।
তবে স্থানীয়দের মতে, এসব বিকল্প সড়কের বেশিরভাগই শহরের অভ্যন্তরীণ এবং ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। ফলে শহরের ভেতরে যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে এবং যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে ও পরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত রুটগুলোর একটি। বিপুল সংখ্যক মানুষ এ সময় বাড়ি ফেরা ও কর্মস্থলে ফেরার জন্য এই সড়ক ব্যবহার করেন। তাই এই সময়ে লেন বন্ধ থাকলে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এ বিষয়ে ফেনী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানান, ২০২৪ সালের বন্যায় রামপুর সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করা জরুরি। তিনি বলেন, এক লেন দিয়ে যানচলাচল অব্যাহত থাকায় সাময়িক চাপ থাকলেও বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ঈদ-পরবর্তী সময়েই কাজটি করার উপযুক্ত সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, কারণ এই সময়ে তিন থেকে চার দিন যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকে এবং ভারী যানচলাচলও সীমিত থাকে। এছাড়া সরকারি ছুটির কারণে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কম থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।







