বুধবার ৮ এপ্রিল, ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Corruption allegations against interim government will be investigated- PM's advisor
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা/ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি বর্তমানে নীতি ও কৌশল এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, “নিশ্চয়ই এসব অভিযোগ তদন্ত করা হবে। আপনারা জানেন, দুর্নীতি দমন কমিশন এখনো পুনর্গঠিত হয়নি। কমিশন পুনর্গঠিত হলে তাদের মাধ্যমেই এসব তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতি বলতে শুধু কে করেছে সেটাই নয়; এই সরকারের সময়েও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।”

সরকার দুর্নীতির লাগাম টানতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকারের ভেতরেও কোনো অনিয়ম হচ্ছে কিনা—সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হবে।”

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা

অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ এবং এ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, “অটোরিকশা অবশ্যই নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। এটি শুধু বিদ্যুতের বিষয় নয়, সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।”

তিনি জানান, অনেক চালক প্রশিক্ষিত নন এবং অনেক যানবাহন প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। আগে এসব যান অলিগলিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে প্রধান সড়কেও চলাচল করছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “অনিয়মিত ও অনুপযুক্ত চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এভাবে চলতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে।”

ব্যাংক খাত সংস্কারে ধীরগতির কৌশল

ব্যাংক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “আগের সরকারের সময়ে এ খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে পুনর্গঠনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।”

তিনি বলেন, কেউ কেউ দ্রুত বড় পরিবর্তন আশা করলেও সরকার মনে করে ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল। “হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ধীরে ও পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করা হচ্ছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অর্থনীতি সচল রাখতে এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি।

ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। “যারা শুরু থেকেই ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা রাখে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে,” বলেন উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে এসব পদক্ষেপ অপরিহার্য।

আরও পড়ুন