
চলতি বছর পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে। সে হিসাবে ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বরাবরের মতোই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রমজান ও ঈদের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে।
সৌদি আরবের প্রভাবশালী দৈনিক ওকাজ পত্রিকার বরাতে জানা গেছে, জ্যোতির্বিদদের মতে ২০২৬ সালে অধিকাংশ আরব দেশে রোজার সময়কাল তুলনামূলকভাবে কম হবে। এ বছর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গড়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা রোজা রাখতে হতে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া শীতল থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে, যা রোজা পালনে স্বস্তি দেবে।
রোজার সময়কাল নিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দুই মিনিট করে রোজার সময় বাড়তে পারে। সে হিসাবে রমজানের শেষ দশকে রোজার দৈর্ঘ্য প্রথম দিকের তুলনায় কিছুটা বেশি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরব দেশগুলোতে রমজানের প্রথম দিনে রোজার সময়কাল হতে পারে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। ধীরে ধীরে তা বেড়ে মাসের শেষ দিকে গিয়ে প্রায় ১৩ ঘণ্টার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
ভূতাত্ত্বিক ও জ্যোতির্বিদদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থান ও অক্ষাংশের পার্থক্যের কারণে এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের রোজার সময়কালে স্বাভাবিকভাবেই ভিন্নতা দেখা যায়। বিশেষ করে বিষুবরেখার কাছাকাছি দেশগুলোর সঙ্গে উত্তর বা দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর দিনের দৈর্ঘ্য ও আবহাওয়ায় পার্থক্য থাকে, যা রোজার সময়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে রমজানের শুরুতে রোজার সময়কাল প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট হতে পারে, যা মাসের শেষ দিকে গিয়ে ১৩ ঘণ্টার কাছাকাছি পৌঁছাবে। শহরভেদে সামান্য তারতম্য থাকলেও এসব দেশে রোজার সময় সাধারণত ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শীতল আবহাওয়ার কারণে রোজা পালন তুলনামূলক আরামদায়ক হবে বলেও আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সামগ্রিকভাবে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের রমজান সময়কাল ও আবহাওয়ার দিক থেকে আগের কয়েক বছরের তুলনায় বেশি স্বস্তিদায়ক হবে। ফলে মুসলিম দেশগুলোতে এবারের রমজান অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক ও সুখকরভাবে কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।









