বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হারিয়ে যেতে বসা কুমিল্লার ৯ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণে সরকারি বরাদ্দ চাইলেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

Rising Cumilla - MP Monirul Haque Chowdhury has sought government funds to preserve nine traditional structures in Cumilla that are on the verge of being lost.
হারিয়ে যেতে বসা কুমিল্লার ৯ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণে সরকারি বরাদ্দ চাইলেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী/ছবি: প্রতিনিধি

কুমিল্লা জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোকে সরকারি হেরিটেজের আওতায় এনে সংরক্ষণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।

এ দাবিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কাছে ডিও লেটার প্রদান করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে মনিরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে কুমিল্লার সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের একটি প্রতিনিধি দল সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময়কালে কুমিল্লার ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসমৃদ্ধ বিভিন্ন স্থাপনার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এসব স্থাপনা সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে যেসব দাবি জানানো হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

শাহ সুজা মসজিদ: কুমিল্লা শহরের মোগলটুলিতে অবস্থিত ঐতিহাসিক শাহ সুজা মসজিদ। ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই স্থাপনাটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করে সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।

রামমালা গ্রন্থাগার: মহেশ চেরিট্যাবল ট্রাস্টের রামমালা গ্রন্থাগার ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত। উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই গ্রন্থাগারের জরুরি সংস্কার এবং পাঠ ও গবেষণার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।

অভয় আশ্রম: ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত অভয় আশ্রমের ঐতিহ্য সংরক্ষণে বহুতল ভবন নির্মাণ, ছাত্রাবাস ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ি: ভাষা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পরিত্যক্ত বাড়ি অধিগ্রহণ করে সেখানে ভাষাশহীদ স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং স্থাপনাটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়।

শচীনদেব বর্মণের বাড়ি: কুমিল্লার দক্ষিণ চর্থায় অবস্থিত উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী শচীনদেব বর্মণের বাড়িটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষণ, সংস্কার ও সরকারি সহায়তা প্রদানের দাবি জানানো হয়।

থিওসোফিক্যাল সোসাইটি কুমিল্লা লজ: ১৮৮৯ সালে টাউন হলের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠিত দি থিওসোফিক্যাল সোসাইটি কুমিল্লা লজ সংস্কার এবং হেরিটেজ মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

রাজরাজেশ্বরী কালীবাড়ি: কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী রাজরাজেশ্বরী কালীবাড়িকে হেরিটেজ ঘোষণা করে মডেল মন্দির নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

বনবিহার শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ মন্দির: সদর দক্ষিণের ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরকে হেরিটেজ ঘোষণা, বহুতল ভবন নির্মাণ, যাত্রীনিবাস ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানানো হয়।

বীরচন্দ্র পাঠাগার: কুমিল্লার ঐতিহাসিক বীরচন্দ্র পাঠাগারকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ, সংস্কার ও উন্নয়নের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন