বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

স্বাধীনতার পর প্রথমবার কোনো মন্ত্রী পায়নি নোয়াখালী, হতাশ জেলাবাসী

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Noakhali MAP
নোয়াখালী/ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। কিন্তু নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় জেলার কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নীরব অস্বস্তি। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো মন্ত্রীসভায় নোয়াখালী থেকে কেউ স্থান পাননি—যা জেলাবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে অনেকে মনে করছেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবে এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণে নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব আসতে পারে।

দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানিয়ে জেলা সদরের শ্রীপুরের বাসিন্দা ক্রীড়া সংগঠক মো. জহীর উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নোয়াখালীর কেউ না কেউ দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও এ জেলার রাজনীতিবিদরা ছিলেন।

তিনি স্মরণ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র সময়ে নোয়াখালীর কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তার ভাষ্য, “এবার পাঁচটি আসনে বিপুল ভোটে ধানের শীষের জয় এসেছে। আমরা আশা করেছিলাম, জেলার পরীক্ষিত নেতাদের কেউ না কেউ মন্ত্রীসভায় স্থান পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের দাবি, তিনি যেন নোয়াখালীবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করেন।”

ব্যবসায়ী আশরাফুল এজাজ বলেন, “নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে চমৎকার মন্ত্রিসভা হয়েছে। তাদের সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন নেই। দেশ এগিয়ে যাবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। তবে নোয়াখালীর কাউকে না রাখায় আমরা আশাহত।”

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ১৯৯১ সাল থেকে নোয়াখালী বরাবরই সব আসন দিয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় ৬টির মধ্যে ৫টি পেয়েছিল দল। এবারও হাতিয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে ৬টিই পাওয়া যেত। অথচ নোয়াখালী সদর আসন থেকে কখনো মন্ত্রী দেওয়া হয়নি—এটিকে তিনি অবিচার বলে উল্লেখ করেন।

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীকে উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্তত ২-৩ জন মন্ত্রী হওয়ার আশা করেছিলাম। আশা করি, বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদদের দেখতে পাব। মন্ত্রী না পেলে অবহেলিত নোয়াখালী অবহেলিতই থেকে যাবে। নোয়াখালী বিভাগ, নোয়াখালী সিটি করপোরেশন ও নোয়াখালী বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অন্তত দুইজন মন্ত্রী প্রয়োজন।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের সময় শুধু নির্বাচনী ফলাফল নয়; আঞ্চলিক ভারসাম্য, দক্ষতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার মতো নানা বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে কোনো জেলার শক্ত অবস্থান থাকলেও তা সরাসরি মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে না।

তবে নোয়াখালীর মতো ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা পুরোপুরি বাদ পড়ায় রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, প্রথম দফায় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব আসতে পারে।

আরও পড়ুন