
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধীরা কখনোই এ দেশের মঙ্গল কামনা করেনি। তারা অতীতের মতো এখনও চায় বাংলাদেশ বিপাকে পড়ুক এবং দেশে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হোক।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, “স্বাধীনতাবিরোধীরা ১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কখনো দেশের শান্তি চায়নি। তারা তখনও স্বাধীনতা চায়নি, এখনও চায় না। বর্তমানে নানা কৌশলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য—দেশে অস্থিরতা তৈরি করা এবং বাংলাদেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গোলাম আযম ও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ‘সূর্যসন্তান’ আখ্যা দিয়ে জামায়াতে ইসলামি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের চরমভাবে অপমান করেছে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন একটি বিজয় দিবস আগে কখনো আসেনি। তবুও এই বিজয় দিবসে বিএনপির পক্ষ থেকে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর যে আশা-উদ্দীপনা নিয়ে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে। সামনে যে নির্বাচন আসছে, সেখানে জনগণ এমন একটি দলকে ভোট দেবে বলে আমরা আশা করি, যারা সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।”
৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে এক কাতারে দাঁড় করানোর প্রচেষ্টার বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “৭১ এবং ২৪—দুটোই যার যার জায়গায় সমহিমায় বিরাজমান। ৭১-এর সঙ্গে ২৪-এর কোনো তুলনা চলে না। এমন তুলনা করা সম্ভবও নয়।”
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশে আবারও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।









