বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ, ২০২৬

সৌদিতে কিন্ডারগার্টেন থেকে সংগীত শিক্ষা চালু করতে প্রশিক্ষণ পাবে আরও ১৭ হাজার নারী শিক্ষক

রাইজিং কুমিল্লা অনলাইন

সৌদিতে কিন্ডারগার্টেন থেকে সংগীত শিক্ষা চালু করতে প্রশিক্ষণ পাবে আরও ১৭ হাজার নারী শিক্ষক/ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব সরকার দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশের অংশ হিসেবে বিদ্যালয় পর্যায়ে সংগীত শিক্ষা চালুর বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিশুদের প্রাথমিক বয়স থেকেই সংগীত ও শিল্পের সঙ্গে পরিচিত করানো এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের মধ্যে সৃষ্টিশীল প্রতিভা গড়ে তোলা। 

দেশটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে হাজারো শিক্ষককে সংগীত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হয়েছে কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষকদের ওপর।

সৌদি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া প্রথম ধাপে ১২ হাজারের বেশি নারী শিক্ষক সরকারি ও বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনে সফলভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে, যেখানে আরও ১৭ হাজার নারী শিক্ষককে পেশাগতভাবে সংগীত শিক্ষায় দক্ষ করে তোলা হবে।

গালফ নিউজ জানিয়েছে, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘সাংস্কৃতিক দক্ষতা উন্নয়ন কৌশল’-এর অংশ। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ মূলত গান, তাল-লয়, বাদ্যযন্ত্রের মৌলিক ধারণা এবং স্থানীয় লোকসংগীত শেখানোর ওপর কেন্দ্রিত।

সংগীত শিক্ষকদের দায়িত্ব হবে কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের সংগীত শিক্ষা পরিচালনা করা। শিক্ষার্থীরা এখানে গান, বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার এবং সঙ্গীতের মৌলিক নিয়মগুলো শিখবে। এই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো, শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা, আবেগপ্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা।

সৌদি সরকারের সংস্কৃতি সংক্রান্ত উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রিয়াদের কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম আর্টস কলেজ প্রতিষ্ঠা। এই প্রতিষ্ঠানটিতে সংগীত ও শিল্পকলার গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের বিশেষ কোর্সও চালু করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সংগীত খাতের উন্নয়নের জন্য ২০২০ সালে সৌদি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘মিউজিক কমিশন’ গঠন করা হয়। এই কমিশনের কাজ হলো: সংগীত শিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, তরুণ প্রতিভাকে উৎসাহিত করা এবং সংগীতকে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক পরিবর্তন লক্ষণীয়। সৌদি আরবে নিয়মিতভাবে কনসার্ট, নাট্যোৎসব, সিনেমা প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিল্প ও বিনোদনের এই উত্থানকে দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক খাতের পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন