
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সকলকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লা-০৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মনিরুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান। এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীকেও সহনশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ করেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত-শিবির কর্তৃক বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, গতকাল রাতে কুমিল্লার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের বড়দৈল গ্রামে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর হামলায় দুইজন বিএনপি কর্মী আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি রাতেই আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান।
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক হীন স্বার্থে এভাবে মানুষ মানুষকে পিটাতে পারে—এটা আমার জানা ছিল না। জামায়াতের প্রার্থী নিশ্চয়ই বিষয়টি অবগত হয়েছেন। দেখি তিনি দলীয়ভাবে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।”
রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাইদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানাবো। দীর্ঘ আন্দোলনে আমরা রাজপথের সহযোদ্ধা ছিলাম, মজলুম ছিলাম। এখন কেউ জালিম হইয়েন না।”
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র প্রসঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তার কাছে যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে, সেগুলোর তালিকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আগেই জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে সাধারণ জনগণকে রক্ষা করবে।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আজ থেকে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নিয়মিত প্রচারণা চালিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি এই আদি কোতোয়ালির সন্তান হয়েও কুমিল্লা শহরে এবারই প্রথম প্রার্থী হয়েছি। দীর্ঘদিন ধরেই শহরটিকে সাজানোর স্বপ্ন ছিল আমার। দীর্ঘ সময় দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি, গণতন্ত্র বারবার পর্যুদস্ত হয়েছে। এবারের নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার নির্বাচন।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “চব্বিশের জুলাইয়ের পর আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। এত তাজা প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত জুলাইয়ের চেতনা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। গণঅভ্যুত্থানের পরও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের দিন কেউ অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা শক্ত হাতে দমন করতে হবে। গত ১৭ বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর মানুষের যে বিশ্বাস নষ্ট হয়েছিল, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেই বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের সুযোগ এসেছে।”
কুমিল্লা-০৬ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “আপনারা কোনো ভয়ভীতি বা শঙ্কা ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসবেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দল-মত, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমি একজন প্রার্থী হিসেবে সবার ভোট চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজামুদ্দিন কায়সারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।








