
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের করার কথা বলার পরই একটি পক্ষ থেকে আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, যারা অতীতে সুবিধা চেয়ে পাননি বা মনক্ষুণ্ন হয়েছেন, তারাই এসব অভিযোগ ছড়াচ্ছেন। পাশাপাশি “ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী দোসরদের”ও এ প্রচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা থাকাকালে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
আসিফ মাহমুদ জানান, বর্তমানে তার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট জমা রয়েছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। তবে এর বিপরীতে রয়েছে ১০ লাখ টাকার সার্ভিস লোন, যার কিস্তি প্রতি মাসে বেতন থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এখনও বাকি রয়েছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। অর্থাৎ, অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ থেকে লোন সমন্বয় করলে তার বাবার নামে এখনো ৮২ হাজার ৪৫ টাকা ঋণ রয়েছে।
এছাড়া তার মায়ের অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ৬১৩ টাকা।
নিজের হিসাব তুলে ধরে তিনি জানান, সোনালি ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টে বর্তমানে রয়েছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা।
উপদেষ্টা হিসেবে ১৬ মাস দায়িত্ব পালনকালে তার বেতন ও ভাতা সেলারি অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। এই সময়ে তিনি সরকারিভাবে পাঁচটি বিদেশ সফর করেছেন এবং সফরের টিএ-ডিএ বাবদ প্রাপ্ত অর্থও একই অ্যাকাউন্টে এসেছে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন ভাতাও ওই হিসাবেই জমা হয়েছে।
তিনি জানান, সরকারে যোগ দেওয়ার আগে তার সেলারি অ্যাকাউন্টে ছিল ৫০ হাজার টাকা। উপদেষ্টা থাকাকালে মোট জমা হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এ সময় উত্তোলন হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই যদি কোনো অভিযোগ থাকত, তা সামনে আনা যেত। কিন্তু এখন তা সামনে আনা হচ্ছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে।
তিনি আরও বলেন, তার ব্যাংক হিসাব তলব করে একটি “রহস্য সৃষ্টির” চেষ্টা করা হচ্ছিল। সে কারণেই তিনি আগেভাগে নিজের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করেছেন।
এর আগে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
গত ২ মার্চ দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও অন্যান্য নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।









