
ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদ শব্দটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে আদালত, আইনি লড়াই কিংবা আলাদা হয়ে যাওয়ার দৃশ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে দেখা দিচ্ছে এক ভিন্ন বাস্তবতা—যেখানে আইনি বিচ্ছেদ নেই, অথচ সম্পর্ক কার্যত ভেঙে পড়েছে।
একই ছাদের নিচে বসবাস, সমাজের চোখে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় বজায় থাকা, কিন্তু মানসিক বা শারীরিকভাবে কোনো সংযোগ না থাকা—এই জটিল সম্পর্ককেই সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন ‘সাইলেন্ট ডিভোর্স’ বা নীরব বিচ্ছেদ।
এই বিচ্ছেদের ঘোষণা কোনো আইনি নথিতে লেখা থাকে না। বরং মনের গভীরে চাপা পড়ে থাকা না বলা কথাগুলো আজীবন নীরব থেকে যায়।
সাইলেন্ট ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়ার পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। দৈনন্দিন জীবনের অতিরিক্ত ব্যস্ততা, পারস্পরিক দায়বদ্ধতার অভাব, একে অপরের প্রতি অবহেলা এবং দীর্ঘ সময় ধরে অনুভূতির আদান-প্রদান না হওয়া—সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে ভালোবাসার জায়গাটি শূন্য হয়ে পড়ে।
কথা বলতে বলতে এক সময় কথাই ফুরিয়ে যায়। আর যখন কথা হয়, তখন তা অনেক সময় ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে তিক্ত অশান্তিতে রূপ নেয়। বিবাদ এড়াতে দম্পতিরা নিজেদের গুটিয়ে নেন। একই ছাদের নিচে থেকেও তারা আলাদা আলাদা জীবনযাপন শুরু করেন, যেন অচেনা মানুষ।
ভালোবাসা হারিয়ে গেলেও অনেকেই কেবল অভ্যাসের বশে কিংবা সামাজিক চাপে সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখেন।
প্রশ্ন উঠতেই পারে—একসঙ্গে ভালো না থাকা সত্ত্বেও কেন তারা আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন না?
এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসে সন্তানদের ভবিষ্যৎ। অনেক দম্পতি চান না তাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা বিচ্ছেদের প্রভাব সন্তানের মানসিক ও সামাজিক জীবনে পড়ুক।
এ ছাড়া আর্থিক স্বচ্ছলতার অভাব কিংবা নতুন করে জীবন শুরু করার অনিশ্চয়তা অনেক নারীকে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে দেয়। সমাজের চোখে ছোট হয়ে যাওয়ার ভয়, সামাজিক চাপ এবং নতুন কাউকে বিশ্বাস করার মানসিক শক্তির অভাবও এই নীরব বিচ্ছেদের পথকে বেছে নিতে বাধ্য করে অনেককে।
অনেকের কাছে আইনি লড়াইয়ের জটিলতা ও মানসিক চাপ সামলানোর চেয়ে একই বাড়িতে থেকেও অচেনা মানুষের মতো জীবন কাটানোই তুলনামূলক নিরাপদ মনে হয়।
এই বাস্তবতা আধুনিক দাম্পত্য জীবনের এক করুণ চিত্রই তুলে ধরে।









