
ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত একটি কোটি টাকার সেতু ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও জনসাধারণের কাজে আসেনি। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে, ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষকে। পুরো উপজেলাজুড়ে প্রায় তিন লক্ষ মানুষ এই অব্যবস্থাপনার কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন জোট সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে ২০০৪ সালে বৃহত্তর লাকসাম থেকে মনোহরগঞ্জ উপজেলা—১১টি ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে এই সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) এম আনোয়ারুল আজিম। পরবর্তীতে ২০০৫–২০০৬ অর্থবছরে সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে ডাকাতিয়া নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে সংযোগ সড়কের অভাবে আজও এর উদ্বোধন হয়নি।
সেতুর পশ্চিম পাড়ে রয়েছে একটি এতিমখানা, মসজিদ, মাদরাসা, হাউরা গ্রামসহ মোট ২২টি গ্রাম এবং তিনটি ইউনিয়ন—বাইশগাঁও, হাসনাবাদ ও সরসপুর। অপরদিকে সেতুর পূর্ব পাড়ের মাত্র ১০০ গজের মধ্যেই অবস্থিত মনোহরগঞ্জ থানা, ঝলম গ্রাম, উপজেলা পরিষদ, মনোহরগঞ্জ হাট-বাজার, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, ব্যাংক, বীমা অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস এবং ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়ন। এছাড়া এই সেতুটি কুমিল্লা, চাঁদপুর ও নোয়াখালী—এই তিন জেলার সংযোগ সেতু হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
সংযোগ সড়ক না থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহআলম বলেন, “আগের কন্ট্রাক্টর কাজ ফেলে চলে গেছে। এখন নতুন করে স্টেটমেন্ট পাঠানো হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহী জানান, “আমি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিয়ে মাটির কাজ করার ব্যবস্থা নেব।”









