
আজ, ১৭ নভেম্বর, বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ-এর ৭৮তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে কুমিল্লার চান্দিনার গল্লাই গ্রামের মুন্সি বাড়িতে তাঁর জন্ম হয়। তাঁর অনুপস্থিতিতেও জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনকে স্মরণ করছে।
অধ্যাপক আলী আশরাফ তাঁর জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধা, সততা ও নিষ্ঠার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৬২ সালে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে। এর পর থেকে আমৃত্যু তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অবিচল ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা দেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর সাহসী অঙ্গীকারের প্রমাণ।
তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে মোট পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যা তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি তাঁর গভীর সংযোগ ও ভালোবাসার প্রতিফলন। তিনি প্রথমে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন। সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিশেষভাবে প্রমাণিত হয় যখন তিনি ২০০১ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। দলীয় কর্মকাণ্ডেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন; তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
অধ্যাপক আলী আশরাফ ছিলেন একজন আদর্শবান জননেতা, যিনি ক্ষমতার চেয়ে জনসেবাকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। তাঁর পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধ তাঁকে দল-মতের ঊর্ধ্বে এক সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। সাধারণ মানুষের জন্য তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা এবং দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান করে দিয়েছে।
২০২১ সালের ৩০ জুলাই ৭৪ বছর বয়সে তিনি এই নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করেন। তাঁর ৭৮তম জন্মদিনে, তাঁর কর্মজীবনের প্রতিটি গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তকে স্মরণ করে, আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আজকের এই দিনটি কেবল তাঁর জন্মবার্ষিকী নয়, বরং দেশের জন্য নিবেদিত এক মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি সুযোগ।









