
শীতকালে ঠান্ডার কারণে অনেকেই গোসল করতে ভয় পান। ফলে কেউ কেউ প্রতিদিন গোসল না করে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন গোসল করেন। আবার অনেকে আরও দীর্ঘ সময় পরপর গোসল করেন। তবে নিয়মিত গোসল না করলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ বাসা বাঁধতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত গোসল করলে শরীর পরিষ্কার থাকে এবং ত্বকে জমে থাকা জীবাণু ও ময়লা সহজেই দূর হয়। গোসল শরীরকে সতেজ রাখে, ঘুম ভালো হয় এবং মনও থাকে প্রশান্ত।
তবে প্রতিদিন গোসল করতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন গোসল না করলেও শরীরের ভেতরের স্বাভাবিক কার্যক্রম যেমন হজম প্রক্রিয়া বা অন্যান্য শারীরিক ক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলতে থাকে। তাই শীতকালে চাইলে একদিন পরপর গোসল করাই যথেষ্ট।
বরং সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে, শীতকালে প্রতিদিন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। বোস্টনের র্যাঞ্চোলজিস্ট ড. রানেলার মতে, শীতকালে প্রতিদিন গোসল করার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, মানুষের ত্বকের নিজস্ব পরিষ্কার হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। কেউ যদি অতিরিক্ত ঘামেন না কিংবা ধুলা-বালু বা ময়লার সংস্পর্শে না আসেন, তাহলে প্রতিদিন গোসল না করলেও সমস্যা নেই।
বিশেষ করে শীতকালে প্রতিদিন গরম পানিতে গোসল করলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। গরম পানির প্রভাবে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে যায়, যার ফলে ত্বকে ফাটল দেখা দেয়। অতিরিক্ত গোসল ত্বককে আরও ফ্লেকি ও রুক্ষ করে তোলে, কারণ এতে ত্বকের আর্দ্রতা ও সুরক্ষা কমে যায়। এমনকি নিয়মিত গোসলের ফলে হাতের নখও দুর্বল ও পাতলা হয়ে যেতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে গোসল পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। দীর্ঘদিন গোসল না করলে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের ব্যাক্টেরিয়াজনিত সংক্রমণ হতে পারে। তাই চর্মরোগ চিকিৎসকরা শীতকালে সপ্তাহে দুই থেকে তিন বারের বেশি গোসল না করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
গোসল না করার দিনগুলোতে ভেজা তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে গোসল ছাড়াও শরীর পরিষ্কার রাখা সম্ভব হবে।
সূত্র: ডিএনএ ইন্ডিয়া










