শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে শীত এলেই জমে ওঠে পিঠার বাজার

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - The pitha market in Lakshmipur freezes over with the arrival of winter
পিঠার দোকান/ছবি: সংগৃহীত

শীতের আমেজ শুরু হতেই লক্ষ্মীপুরের অলিগলি, পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে পিঠাপুলির রঙিন পসরা নিয়ে বসে যাচ্ছেন দোকানিরা। বাহারি সব পিঠার স্বাদ নিতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন পিঠাপ্রেমীরা। সন্ধ্যা নামলেই এসব দোকানে শুরু হয় বেচাকেনার ধুম, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। জেলা শহরের জনবহুল অলিগলি ও রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে লাইন দিয়ে পিঠা খেতে দেখা যায় অসংখ্য মানুষকে।

শীত মৌসুমে ঘরে বসে পিঠা বানানো গ্রামবাংলার বহু পুরোনো রীতি। তবে সময়ের পরিবর্তন, ব্যস্ততা ও নানা পারিপার্শ্বিক কারণে এখন আর ঘরে ঘরে সেই আয়োজন তেমন দেখা যায় না। ঘরোয়া রান্নার ঝামেলা এড়িয়ে অনেকেই এখন দোকানের পিঠার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। ফলে পিঠাপ্রেমের এই চাহিদা পূরণ করতে মৌসুমী পিঠার দোকানগুলোই হয়ে উঠেছে নির্ভরতার জায়গা। এসব দোকান থেকে পিঠা বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন বহু পরিবার।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কম আঁচে চুলায় নীরবে ধোঁয়া উঠছে আর তাতেই তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা ও তেলের পিঠাসহ আরও নানা পিঠা। চুলা থেকে নামানোর মুহূর্তেই পিঠা চলে যাচ্ছে ক্রেতার হাতে। যদিও বিভিন্ন ধরনের পিঠা পাওয়া যায়, তবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা চিতই ও ভাপা পিঠার। চিতই পিঠার সঙ্গে পরিবেশন করা হয় সরিষা ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, মরিচ ভর্তা, ধনিয়া ভর্তা, গুড় ও নারিকেল। আবার অনেক জায়গায় ডিম দিয়েও বানানো হয় চিতই পিঠা। কেউ দোকানেই বসে উপভোগ করছেন, কেউ আবার পরিবারে নিয়ে যাচ্ছেন।

জেলার রামগঞ্জ, রায়পুর এবং লক্ষ্মীপুর জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশ, মোড়, পাড়া-মহল্লা ও ফুটপাতজুড়ে গড়ে উঠেছে কয়েকশ মৌসুমী পিঠার দোকান। প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ে।

রায়পুর এলাকার মা-ছেলের একটি পিঠার দোকানে কথা হয় উচ্চমাধ্যমিকে পড়ুয়া এক ছাত্রের সঙ্গে। তিনি জানান, শীতের মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই তিনি এখানে পিঠা খেতে আসেন।

এদিকে রামগঞ্জের পিঠা বিক্রেতা জানান, ভাই এবং মামার কর্মস্থলে যাওয়ার পর দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি একা থাকেন। সেই সময় কাজে লাগাতে তিনি পিঠা বিক্রি শুরু করেছেন। এতে সব খরচ বাদে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় হচ্ছে তার।

আরও পড়ুন