
খাবার গ্রহণের পর অন্তত আট ঘণ্টা পর্যন্ত মানুষের শরীরে রোজার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে না। কারণ আমরা যে খাবার খাই, তা পাকস্থলীতে সম্পূর্ণ হজম হতে এবং এর পুষ্টি উপাদান শোষিত হতে শরীরের প্রায় আট ঘণ্টা সময় লাগে। খাবার পুরোপুরি হজম হয়ে গেলে শরীর তখন যকৃত ও মাংসপেশীতে সঞ্চিত গ্লুকোজ থেকে শক্তি নেওয়া শুরু করে।
এ সময় থেকেই শরীরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে।
রোজার প্রথম সাত দিনে শরীরের পরিবর্তন
রোজার প্রথম সাত দিনে শরীর দ্রুতগতিতে চর্বি খরচ করতে শুরু করে, যা ওজন কমাতে সহায়তা করে। দীর্ঘ সময় খাবার গ্রহণ না করার ফলে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও হ্রাস পায়। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ায় অনেকের দুর্বলতা, ঝিমুনি বা ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব কিংবা নিশ্বাসে দুর্গন্ধের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
রোজার প্রথম সাত দিনেই সাধারণত সবচেয়ে বেশি ক্ষুধা অনুভূত হয়। প্রথম কয়েকদিন পর শরীর যখন রোজার সঙ্গে মানিয়ে নেয়, তখন শরীরে জমে থাকা চর্বি ভেঙে তা রক্তের শর্করায় রূপান্তরিত হয়ে শক্তির জোগান দেয়।
পানি ও খাবারের ভারসাম্য জরুরি
রোজার সময় দিনের বেলায় খাবার ও পানি গ্রহণ করা যায় না। তাই ইফতারের পর শরীরের ঘাটতি পূরণে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় মারাত্মক পানি-শূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে গরমের দিনে অতিরিক্ত ঘাম হলে।
এ ছাড়া খাবারের ক্ষেত্রে শক্তিদায়ক ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য তালিকায় কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা, চর্বি, প্রোটিন বা আমিষ, লবণ এবং পর্যাপ্ত পানি থাকা প্রয়োজন, যাতে শরীর সব ধরনের পুষ্টি পায়।
সূত্র: বিবিসি










