শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রোজার আগেই লেবুর বাজার চড়া, ১ হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা পর্যন্ত

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Lemon
লেবু/ছবি: সংগৃহীত/কোলাজ রাইজিং কুমিল্লা

সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান শুরু হতে এখনো প্রায় দুই সপ্তাহের কম সময় বাকি। তবে রোজা শুরুর আগেই ইফতার সামগ্রীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লেবুর দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে লেবু বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে, আর সামনে দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন বিক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ, বাদশাহ মিয়ার বাজার, টমসমব্রীজ, নিউমার্কেট ও বিশ্বরোডের সাপ্তাহিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাঝারি সাইজের এলাচি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। একই সঙ্গে মাঝারি সাইজের সিলেটি লেবুর দাম ৮০ টাকা এবং বড় সাইজের গুলা লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

বিক্রেতারা জানান, মাত্র এক মাস আগেও যেসব লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেগুলো এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় লেবুর বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে।

বিশ্বরোডের সাপ্তাহিক বাজারে সবজি বিক্রেতা হারুম বলেন, “পাইকারিতে হঠাৎ করেই লেবুর দাম বেড়ে গেছে। তাই আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, সে কারণে খুচরা বাজারে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছি। পাইকারি বাজারে দাম কমলে খুচরা বাজারেও কমবে।” তিনি আরও জানান, এক মাস আগেও এই লেবু ২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

আরেক সবজি বিক্রেতা মো. রফিক বলেন, “রমজান এলেই সাধারণত লেবুর দাম বাড়ে। তবে এবার রোজার আগেই দাম বেড়ে গেছে। এখন লেবুর মৌসুম না থাকায় দাম বাড়ছে। রমজান মাসে দাম আরও বাড়তে পারে।”

সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ সবজির দামও বাড়তির দিকে। বর্তমানে টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৫০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, মুলা ২০ টাকা এবং শালগম ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা দরে।

মানভেদে প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ টাকা, ফুলকপি ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং বাঁধাকপি ২০ টাকা করে। প্রতি হালি কাঁচা কলার দাম ৪০ টাকা।

মাছ ও মাংসেও বাড়তি চাপ

মাছের বাজারেও আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রুই, কাতলা, পাঙাশ, তেলাপিয়া থেকে শুরু করে দেশি ছোট মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা বাড়লেও সেই অনুপাতে সরবরাহ না থাকায় মাছের দাম বেড়ে গেছে।

মাংসের বাজারেও একই চিত্র। বর্তমানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। খাসির মাংসের দাম কেজিপ্রতি ১২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়।

ক্রেতারা বলছেন, রোজার আগেই এভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকের আশঙ্কা, রমজান শুরু হলে বাজারে দাম আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন