
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ জনগণ যেন সহজেই প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে মাসব্যাপী সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম, গরুর মাংস ও ড্রেসড ব্রয়লার মাংস বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. মামুন হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে মাংস, ডিম ও দুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে গত রবিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, রমজানের আগের দিন থেকে শুরু করে ২৫ রমজান পর্যন্ত মোট ২৬ দিন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব পণ্য সুলভ মূল্যে বিক্রি করা হবে।
এই কর্মসূচির আওতায় ভোক্তারা নিম্নোক্ত দামে প্রাণিজ পণ্য কিনতে পারবেন—
ড্রেসড ব্রয়লার মাংস: প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা
পাস্তুরিত দুধ: প্রতি লিটার ৮০ টাকা
ডিম: প্রতি পিস ৮ টাকা
গরুর মাংস: প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকা শহরের বাইরে অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরেও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম, মাংস ও ব্রয়লার বিপণনের উদ্যোগ নেবেন।
প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় জনগণের চাহিদা বিবেচনায় ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রস্তাবিত স্থানগুলো হলো—
সচিবালয়ের পাশে (আব্দুল গনি রোড), খামারবাড়ি (ফার্মগেট), ষাটফুট রোড (মিরপুর), আজিমপুর মাতৃসদন, নয়াবাজার (পুরান ঢাকা), উত্তরা হাউজ বিল্ডিং, রামপুরা বাজার, হাজারীবাগ, আরামবাগ (মতিঝিল), কালশী (মিরপুর), মানিক নগর গলির মুখ (যাত্রাবাড়ী), শাহজাদপুর (বাড্ডা), কড়াইল বস্তি (বনানী), কামরাঙ্গীরচর, খিলগাঁও (রেল ক্রসিং দক্ষিণ), নাখালপাড়া (লুকাস মোড়), সেগুনবাগিচা (কাঁচা বাজার), মোহাম্মদপুর (বাবর রোড), মোহাম্মদপুর (বসিলা), কাকরাইল, বনশ্রী, মিরপুর-১০, কল্যাণপুর, তেজগাঁও ও পুরান ঢাকা (বঙ্গবাজার)।
এছাড়া স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়ের জন্য স্থায়ী স্পট নির্ধারণের মাধ্যমে বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।









