মঙ্গলবার ৩ মার্চ, ২০২৬

যে ধরনের সম্পর্ক পছন্দ করেন ৯৭ শতাংশ নারী!

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla -The type of relationship that 97 percent of women prefer
প্রতীকি ছবি/পেক্সেল

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সম্পর্কের সংজ্ঞা ও ধরণ। আজকের তরুণ প্রজন্ম দ্রুত পরিবর্তনশীল এই ধারায় সম্পর্ক স্থাপন বা ক্ষণস্থায়ী ‘ফ্লিং’-এর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে স্থায়ী সম্পর্ক, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং সমানাধিকারকে। সম্প্রতি ভারতের আইসেলের একটি জরিপ, ‘দ্যা কমিটমেন্ট ডেকেড’-এ এই পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। দেশের ৩,৪০০ শহুরে একক (সিঙ্গেল) অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, দেশের ৯৭ শতাংশ নারী এখন অস্থায়ী ফ্লিং বা ক্ষণস্থায়ী রোম্যান্সের বদলে স্থায়ী সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছেন। পুরনো দিনে যেখানে যুবক-যুবতীরা একাধিক মানুষের সাথে চ্যাট করা বা কেবল মজার জন্য সময় কাটানোকে প্রাধান্য দিত, এখন সেই মনোভাব পাল্টেছে।

৯০ শতাংশ মিলেনিয়াল নারী কেবল বন্ধুত্ব নয়, বরং স্থায়ী সম্পর্ক চাইছেন।তাদের এক-তৃতীয়াংশ এমনকি প্রেমের সম্পর্কের এক বছরের মধ্যেই বিয়ের পরিকল্পনা করছেন। ৮০ শতাংশ জেন জেড ও ৮৮ শতাংশ মিলেনিয়াল পুরুষ এখন স্থায়ী সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

২২ বছর বয়সী জ্যোতিরাদিত্য সিংয়ের কথায়, “আমি স্থায়ী সম্পর্ক পছন্দ করি। সত্যিকারের প্রতিশ্রুতিতে দুইজন একে অপরকে সমর্থন করে এবং একসাথে এগোতে পারে।”

তরুণরা এখন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এটি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হচ্ছে। জরিপে দেখা গেছে, ৬৭ শতাংশ জেন জেড নারী মানসিক সমস্যার কারণে সম্পর্ক শেষ করে দিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভারতীয় কেবল মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে সম্পর্ক এড়িয়ে চলছেন।

২১ বছর বয়সী খুশি সুকিজা বলেন, “যদি সম্পর্ক মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, তখন সেখান থেকে বের হয়ে আসা উচিত। সম্পর্ক যদি ক্লান্তিকর হয়, দূরে থাকা ভালো।”

সাইকোলজিস্ট অর্পিতা কোহলির মতে, “আজকের যুবকরা ক্ষতিকর সম্পর্ক, যেমন মানসিক বিষক্রিয়া, অসম্মান বা সমর্থনের অভাব — এসব থেকে বেরিয়ে আসার সাহস রাখে। এই বিষয়গুলো দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করতে পারে। ব্রেকআপে কোনো লজ্জা নেই, তাই মানুষ মানসিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”

‘বিল স্প্লিটিং’-এ বিশ্বাসী নারী-পুরুষ আজকের সম্পর্ক শুধু মানসিক বন্ধন নয়, বরং আর্থিক সমতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।জরিপে উঠে এসেছে, ৫৩ শতাংশ নারী প্রথম ডেটে বিল ভাগ করে দিতে চান বিল স্প্লিটিং। এখনও ৪২ শতাংশ পুরুষ মনে করেন ডেটের বিল তাদেরই দেওয়া উচিত।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী রক্ষিতার মন্তব্য: “যখন দুইজনই আর্থিক বিষয়ে অবদান রাখে, তখন সম্পর্কের ভারসাম্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকে। এতে করে একজনের ওপর সব চাপ পড়ে না।”

আজকের যুবকরা স্থিতিশীল এবং মানসিকভাবে স্বাস্থ্যসম্মত সম্পর্ককে খুঁজছে। ফলে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় এখন ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে, অস্থির আচরণ, সম্পর্কের প্রতি প্রচেষ্টার অভাব ও মানসিকভাবে অপ্রাপ্যতা।

আরও পড়ুন