বুধবার ১ এপ্রিল, ২০২৬

মুস্তাফিজ–কেকেআর বিতর্ক: ১২ কোটি টাকার ভবিষ্যৎ কী? আইপিএলের নিয়ম কী বলছে

রাইজিং স্পোর্টস

Rising Cumilla - Mustafiz ends IPL before even taking the field
মুস্তাফিজ–কেকেআর বিতর্ক: ১২ কোটি টাকার ভবিষ্যৎ কী? আইপিএলের নিয়ম কী বলছে/ছবি: সংগৃহীত

আইপিএলের আসন্ন আসর শুরুর আগেই নজিরবিহীন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর হুমকির কারণে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)।

বিসিসিআইয়ের এই নির্দেশনা মেনে নিয়ে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে মুস্তাফিজকে দল থেকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইপিএল নিলামে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে লড়াই করে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা) মুস্তাফিজকে দলে ভিড়িয়েছিল কেকেআর। কিন্তু আসর শুরুর আগেই মাঠের বাইরের হস্তক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ এই বিদেশি খেলোয়াড়কে হারানোয় বড় আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতির মুখে পড়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত কোনো খেলোয়াড় ইনজুরির কারণে বা নিজে থেকে সরে দাঁড়ালে ফ্র্যাঞ্চাইজির অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে মুস্তাফিজের ক্ষেত্রে বিষয়টি ব্যতিক্রম হিসেবে ‘ফোর্স মাজর’—অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে সৃষ্ট পরিস্থিতি—হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কারণ এখানে কেকেআর নিজের সিদ্ধান্তে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়নি। বরং বিসিসিআই সরকারিভাবে হস্তক্ষেপ করে তাকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার ওপর কেকেআর কিংবা মুস্তাফিজ—কারওই কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। সে কারণে এই ক্ষেত্রে কেকেআর চুক্তির অর্থ পরিশোধে বাধ্য নয়।

তবে মুস্তাফিজের জন্য খরচ করা অর্থ কেকেআর নতুন কোনো খেলোয়াড় দলে নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ একবার নিলামে লক হয়ে যাওয়া অর্থ ‘রিফান্ড’ করার বিষয়ে আইপিএলের নিয়মে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

যদিও বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, কেকেআর মুস্তাফিজের বিকল্প হিসেবে অন্য ক্রিকেটার দলে নিতে পারবে। তবে মুস্তাফিজের জন্য ব্যয় করা অর্থ ফ্র্যাঞ্চাইজি ফেরত পাবে কি না—সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে, বিসিসিআই কিংবা কেকেআরের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার পথও খোলা থাকছে মুস্তাফিজুর রহমানের সামনে। তবে তিনি যদি ক্ষতিপূরণ দাবি করেন, সেই অর্থ কে বহন করবে—বিসিসিআই নাকি কেকেআর—তা নিয়েও এখনো কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।

আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি কোনোভাবে সামাল দেওয়া গেলেও মাঠের ক্ষতি পূরণ করা কেকেআরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেথ ওভারের বিশেষজ্ঞ এবং ‘কাটার মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত মুস্তাফিজের সমমানের বোলার এই মুহূর্তে খুঁজে পাওয়া সহজ নয়।

বিশেষ করে নিলাম পরবর্তী সময়ে মানসম্পন্ন বিদেশি পেসারের সংখ্যা সীমিত থাকায় চাপ আরও বেড়েছে কেকেআরের ওপর। আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতামূলক আসরে এমন একজন বোলারের অনুপস্থিতি দলের পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন