বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ, ২০২৬

মার্চের ২৪ দিনেই এলো ৩০৫ কোটি ডলার, প্রবাসী আয়ে রেকর্ডের নতুন সম্ভাবনা

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Remittance
রেমিট্যান্স/ছবি: সংগৃহীত

চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মার্চ পর্যন্ত মোট প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০৫ কোটি ডলারের বেশি। এই ধারাবাহিক প্রবাহ অব্যাহত থাকলে চলতি মার্চ মাসে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে নতুন রেকর্ড গড়ার জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রেমিট্যান্সের এই উচ্চ প্রবাহের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা তাদের পরিবারের জন্য তুলনামূলক বেশি অর্থ দেশে পাঠান, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে চলতি মাসেও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে—৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে একই বছরের ডিসেম্বরে, যার পরিমাণ ছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে গত জানুয়ারি মাস, যখন দেশে আসে ৩১৭ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫৫০ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় আটজন অর্থনীতিবিদ। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধাক্কা বাংলাদেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এখন থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদহার কমানো ঠিক হবে না। ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস খোঁজার ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।

তারা আরও সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও তা সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক সংকট কতদিন স্থায়ী হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী সমর্থন দিচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মার্চ মাসে সম্ভাব্য নতুন রেকর্ডের এই খবর দেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ছে, যা রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন