
গত সাড়ে ৩১ ঘণ্টার মধ্যে দেশে মোট চারবার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে আজ, শনিবার সকালে একবার এবং সন্ধ্যায় পরপর দুবার ভূমিকম্প হয়। এর আগে গতকাল, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা।
শুক্রবারের এই ভূমিকম্প প্রায় সারা দেশেই অনুভূত হয়। ভূকম্পনের সময় আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই ঘর বা ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এই আতঙ্কের জেরে বেশ কিছু মানুষ ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন। এর ফলে শিশুসহ মোট ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক (৬০০-এরও বেশি) ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বারবার ভূমিকম্পের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখন আঘাত হানবে, তা আগাম জানার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি এখনো বিশ্বে আসেনি। ব্যক্তিগত প্রস্তুতি, ভবনের নিরাপত্তা, এবং জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা আগে থেকেই নিশ্চিত রাখা তাই অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভূমিকম্পে প্রাণহানি কমাতে হলে সঠিক সতর্কতা এবং নিয়মিত মহড়া বাড়ানো প্রয়োজন। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে জোর দিতে হবে।
আপনি কাজ করছেন, ঘরে বসে আছেন বা রাস্তায় কোথাও যাচ্ছেন—হঠাৎ করে চারপাশের সবকিছু কেঁপে উঠলে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ভূমিকম্পের একটি ঝাঁকুনির পর আফটারশকের ঝুঁকিও থাকে। তাই একবার কম্পন থেমে গেলেও আপনি পুরোপুরি নিরাপদ—এমনটা ভাবা ঠিক নয়। এ অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ভূমিকম্পের সময় জনগণের জন্য করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো নিয়ে একগুচ্ছ জরুরি পরামর্শ দিয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় করণীয়:
ভূকম্পন অনুভূত হলে আতঙ্কিত হবেন না।
বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে টেবিল, ডেস্ক বা শক্ত কোনো আসবাবের নিচে আশ্রয় নিন।
রান্নাঘরে থাকলে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দ্রুত বেরিয়ে আসুন।
ভবনের বিম, কলাম ও পিলার ঘেঁষে আশ্রয় নিন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে স্কুলব্যাগ মাথায় দিয়ে শক্ত বেঞ্চ অথবা শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিন।
ঘরের বাইরে থাকলে গাছ, উঁচু বাড়ি, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে খোলাস্থানে আশ্রয় নিন।
গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, হাসপাতাল, মার্কেট ও সিনেমা হলে থাকলে বের হওয়ার জন্য দরজার সামনে ভিড় কিংবা ধাক্কাধাক্কি না করে দুহাতে মাথা ঢেকে বসে পড়ুন।
ভাঙা দেয়ালের নিচে চাপা পড়লে বেশি নড়াচড়ার চেষ্টা করবেন না। কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন, যাতে ধুলাবালু শ্বাসনালিতে না ঢোকে।
একবার কম্পন হওয়ার পর আবারও কম্পন হতে পারে। তাই সুযোগ বুঝে বের হয়ে খালি জায়গায় আশ্রয় নিন।
ব্যাটারিচালিত রেডিও, টর্চলাইট, পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম বাড়িতে রাখুন।
কী করবেন না
ওপর তলায় থাকলে কম্পন বা ঝাঁকুনি না থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে; তাড়াহুড়ো করে লাফ দেওয়া বা লিফট ব্যবহার করে নামা থেকে বিরত থাকুন।
কম্পন বা ঝাঁকুনি থামলে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ুন এবং খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিন।
গাড়িতে থাকলে পদচারী–সেতু, উড়ালসড়ক, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামান। ভূকম্পন না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরে থাকুন।










