রবিবার ১২ এপ্রিল, ২০২৬

ভারতীয় সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র আশা ভোঁসলে মারা গেছেন

বিনোদন ডেস্ক

Rising Cumilla - Asha Bhosle
আশা ভোঁসলে/ছবি: সংগৃহীত

স্তব্ধ হয়ে গেছে সুরের ভুবন। থেমে গেল সাত দশকের এক অবিরাম সুরযাত্রা। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই সুরসম্রাজ্ঞী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তিনি চিরবিদায় নেন। রবিবারের সেই বিষণ্ণ দুপুরে বিশ্বজুড়ে সংগীতাঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।

দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আশা ভোঁসলে ভারতের বিভিন্ন ভাষায় চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য অসংখ্য গান রেকর্ড করেছেন। ঝুলিতে ভরেছেন অগণিত সম্মাননা। তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হন এবং ২০০৮ সালে অর্জন করেন পদ্মভূষণ। এছাড়া ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘এক পরদেশী মেরা দিল লে গয়া’, ‘তুমসে মিলকে’সহ আরও অনেক অমর সৃষ্টি।

১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রে এক সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। তাঁর বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন খ্যাতিমান শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী। মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতৃহীন হওয়ার পর পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বড় বোন লতা মঙ্গেশকর-এর সঙ্গে সংগীতজগতে পথচলা শুরু করেন তিনি।

১৯৪৩ সালে একটি মারাঠি সিনেমার মাধ্যমে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু করেন আশা ভোঁসলে। এরপর ১৯৪৮ সালে ‘চুনরিয়া’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় অভিষেক ঘটে তাঁর।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে শমশাদ বেগম বা লতা মঙ্গেশকরের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের ছায়ার আড়ালে থাকলেও, পঞ্চাশের দশকে ও. পি. নাইয়ার এবং এস. ডি. বর্মন-এর সুরে তাঁর প্রতিভার বিকাশ ঘটে। পরবর্তীতে সত্তর ও আশির দশকে আর. ডি. বর্মন-এর সঙ্গে তাঁর জুটি আধুনিক পপ ও ক্যাবারে গানে নতুন মাত্রা যোগ করে। একইসঙ্গে ‘উমরাও জান’ ছবির গজলের মাধ্যমে তিনি তাঁর কণ্ঠের ধ্রুপদী গভীরতা প্রমাণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে আর. ডি. বর্মনকে বিয়ে করেন। দীর্ঘ সাত দশকের সংগীতজীবনে তিনি হাজার হাজার গান গেয়েছেন, যার স্বীকৃতিস্বরূপ গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাঁকে সম্মানিত করে। তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ এবং একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন।

সংগীতের পাশাপাশি রান্নার প্রতিও ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। এই আগ্রহ থেকেই বিশ্বজুড়ে ‘Asha’s’ নামে তাঁর রেস্তোরাঁ চেইন গড়ে ওঠে।

আশা ভোঁসলের প্রস্থান শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যু নয়—এটি একটি যুগের অবসান।

আরও পড়ুন