সোমবার ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

কুমিল্লায় বেড়েই চলছে গোমতীর পানি, আতঙ্কে দুই পাড়ের মানুষ

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদন

ছবি: রাইজিং কুমিল্লা

গত দু’দিনের টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে, যা জেলার কয়েকটি উপজেলায় বন্যার আশঙ্কা ক্রমশ বাড়িয়ে তুলছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে।

বুড়িচং উপজেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোমতী নদীর পানির উচ্চতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে:

  • সকাল ০৬:০০ টা: ৮.০০ মি.
  • সকাল ০৯:০০ টা: ৮.৩০ মি.
  • দুপুর ১২:০০ টা: ০৮.৫৬ মি.
  • বিকাল ০৩:০০ টা: ০৮.৮৩ মি.
  • বিকাল ০৬:০০ টা: ০৯.০৮ মি.

নদীর পানির বিপদসীমা: ১১.৩০ মিটার।

আজ (বুধবার) বিকেল ৬টায় গোমতী নদীর পানি ৯ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। যা নদীর বিপদসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক ভারী বর্ষণ এবং উজানের ঢলে গত ২৪ ঘণ্টায় গোমতীর পানি প্রায় ৫ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু কুমিল্লা অঞ্চলেই নয়, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যার পানি গোমতী নদী দিয়ে কুমিল্লা অংশের দিকে নেমে আসছে।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. ওয়ালিউজ্জামান জানান, “টানা ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টি থেমে গেলে এবং উজানের ঢল বন্ধ হলে বিপদ কাটতে পারে। নতুবা বন্যার শঙ্কা রয়ে যাবে।” তিনি আরও জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এদিকে, কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস সূত্রে খবর, গতকাল বিকেল ৩টা থেকে আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১২৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একটি ভারী বর্ষণের সংকেত রয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আরিফ বলেন, “মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। সাগরে একটি লঘুচাপ আছে, তবে সেটি অনেক দূরে ভারতের অংশে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য আবহাওয়ার একই পূর্বাভাস রয়েছে।”

টিক্কার চর এলাকার সুমন জানান, গতো বছরের বন্যায় আমার বোনের বাড়ি ডুবে যায়। তপরে আমাদের বাসায় উঠে। এবাও ভয়ে আছে তারা।

অন্যদিকে গোমতীর পানি বৃদ্ধির ফলে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

পালপাড়া এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী  হেলাল মিয়া জানান, গতো বছরের বন্যায় দোকান ভেঙে যায়। খুব কষ্টে সামাল দিয়েছি। এবার কি করবো বুঝে উঠতে পারছিনা।

এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, “জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে বন্যার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আমাদের ৫৮৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও জিআর চাল মজুত আছে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”

আরও পড়ুন