মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলো ২ শতাংশ

রাইজিং কুমিল্লা অনলাইন

Rising Cumilla - Fuel oil
জ্বালানি তেল/ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা কমে যাওয়া, ফলে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ হ্রাস পেয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৬৭ ডলার বা ২.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪.৮৫ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৫৪ ডলার বা ২.৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬০.৪৮ ডলারে নেমেছে।

এর আগে বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) উভয় সূচকই ১ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর সেই ঊর্ধ্বগতির বড় অংশই হারিয়েছে বাজার।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ডের হার কমে এসেছে এবং সেখানে বড় ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তার এই বক্তব্যের ফলে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা কমে যায়, যা তেলের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না—এমন প্রত্যাশার কারণে তেলের বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বৃদ্ধিও দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এখনো উচ্চমাত্রায় রয়েছে এবং যেকোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৫ থেকে ৬৫ ডলারের মধ্যে লেনদেন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন জ্বালানি তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২২.৪ মিলিয়ন ব্যারেলে। এতে করে বাজারে মন্দাভাব আরও জোরালো হয়েছে।

এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ভেনেজুয়েলাও তেলের উৎপাদন কৌশলে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

চাহিদার দিক থেকে, পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা (ওপেক) জানিয়েছে, ২০২৭ সালে তেলের চাহিদা ২০২৬ সালের মতো একই গতিতে বাড়বে। সংস্থাটির মতে, সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অতিরিক্ত তেল সরবরাহের পূর্বাভাসের সঙ্গে কিছুটা বিপরীত।

এ ছাড়া চীনের চাহিদা তেলের বাজারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে চীনের অপরিশোধিত তেল আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। পুরো ২০২৫ সালজুড়েও আমদানি বেড়েছে ৪.৪ শতাংশ। ডিসেম্বরে এবং ২০২৫ সালের হিসাবে দৈনিক অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন