
দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাকতুমের কন্যা শেখা মাহরা মোহাম্মদ রাশেদ আল মাকতুম সম্প্রতি মার্কিন গায়ক ও র্যাপার ফ্রেঞ্চ মন্টানার সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন করেছেন।
গত বুধবার মার্কিন বিনোদনভিত্তিক ওয়েবসাইট টিএমজেড-কে মন্টানার এক প্রতিনিধি এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
২০২৩ সালের মে মাসে শেখা মাহরা তার প্রথম স্বামী শেখ মানা বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমকে বিয়ে করেছিলেন। তবে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। বিবাহবিচ্ছেদের পর মাহরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলাখুলিভাবে তালাকের ঘোষণা দেন, যা সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
বিচ্ছেদের পরপরই মাহরা ও ফ্রেঞ্চ মন্টানার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। ২০২৪ সালের শেষদিকে মাহরা র্যাপার মন্টানাকে দুবাই ঘুরে দেখান। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনের একাধিক ছবি প্রকাশ্যে আসে। কখনো তাদের মরক্কো ও দুবাইয়ের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে, আবার কখনো রেস্তোরাঁয় খেতে বা ঐতিহাসিক মসজিদ পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। এই গুঞ্জন আরও জোরালো হয় যখন তারা ২০২৫ সালের প্যারিস ফ্যাশন শোতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে হাত ধরে হাঁটতে শুরু করেন। এই ঘটনা তাদের সম্পর্কের সত্যতা নিশ্চিত করে।
ফ্রেঞ্চ মন্টানার প্রতিনিধি জানান, তিনি ২০২৪ সালের জুনে প্যারিস ফ্যাশন সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে শেখা মাহরাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। যদিও এখনো তাদের বিয়ের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
শেখা মাহরা যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তিনি দুবাইয়ের মোহাম্মদ বিন রাশেদ গভর্নমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে বিশেষ ডিগ্রিও অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে দুবাইভিত্তিক একটি গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।
ফ্রেঞ্চ মন্টানার আসল নাম করিম খারবুশ। তিনি মরক্কোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩ বছর বয়সে পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ২০০০ সালের শুরুতে ‘ইয়াং ফ্রেঞ্চ’ নামে তার সংগীত জীবন শুরু হয়। ‘আনফরগেটেবল’, ‘নো স্টাইলিস্ট’ এবং ‘ওয়েলকাম টু দ্য পার্টি’র মতো একাধিক জনপ্রিয় গান প্রকাশ করে তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করেন। সংগীতের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন দাতব্য কাজেও সুনাম কুড়িয়েছেন। বিশেষ করে, উগান্ডা ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রকল্পে তিনি অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ফ্রেঞ্চ মন্টানা ২০০৭ সালে উদ্যোক্তা ও ডিজাইনার নাদিন খারবুশকে বিয়ে করেছিলেন, তবে ২০১৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই দম্পতির ১৬ বছর বয়সী একটি ছেলে আছে, যার নাম ক্রুজ খারবুশ। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট।